সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নাটকের আবেদন বদলে যায়। আধুনিক বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ব্রেশটের নাটক জার্মানিতেই আজকাল খুব কম মঞ্চস্থ হয়। এমনকি ভিনদেশেও।
সত্তরের দশকে যে ব্রেশটকে আমাদের নিজেদেরই নাট্যকার মনে হতো, সেই ব্রেশট আস্তে আস্তে চিরায়ত নাটকের কাতারে চলে গেছেন, আগের মতো আর সমকালীন মনে হয় না। তবে শেক্সপিয়ার, ব্রেশট, মলিয়েঁরের নাটক সমকালকে অতিক্রম করে চিরকালীন হয়ে গেছে—নতুন নতুন ব্যাখ্যা নিয়ে তা আমাদের সামনে উপস্থাপিত হবে প্রতিভাধর নির্দেশকের কল্যাণে।
রবীন্দ্রনাথের নাটককে আমরা অনেকেই মনে করি উত্তর–আধুনিক, সময়ের চেয়ে এগিয়ে। কেবল ইংরেজি বা অন্য আন্তর্জাতিক ভাষায় রবীন্দ্রনাথের নাটক যথেষ্ট অনূদিত হয়নি বলেই রবীন্দ্রনাথ আন্তর্জাতিক নাট্য প্রযোজকদের কাছে শেক্সপিয়ার বা ব্রেশটের কাতারে স্থান করে নিতে পারেননি।
আজকাল বিদেশেও অনেক প্রযোজক ভিন্ন ধরনের নাটক মঞ্চায়ন করতে চান, তাঁরা পূর্বদেশীয় নাটকের খোঁজ করেন। তাই আমাদের বাংলা নাটকের যদি প্রচুর অনুবাদ থাকত, বিদেশে এসব নাটকের অভিনয় সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যেত।
এবার দৃষ্টি ফেরাই প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের দিকে। ভারতের নাট্য ঐতিহ্য অত্যন্ত সমৃদ্ধ, একটি রাজ্যে আমাদেরই বাংলা ভাষায় নাট্যচর্চা হয়। অনেক সময় আমাদের দর্শকেরা কলকাতার দু-একটা নাটক দেখে এসে বলেন, আমাদের নাটক ওখানকার চেয়ে ভালো। অবশ্য দুই-তিন বছর ধরে কলকাতার যেসব দল পারস্পরিক বিনিময়ের সূত্র ধরে বাংলাদেশে আসছে, তাতে ওই ধরনের মন্তব্য করলে দর্শকদের দোষ দেওয়া যায় না।
