আমতলীতে রাতের আঁধারে খাল খনন-গাছ কেটে সাবাড়, এলাকাবাসীর বিক্ষোভ

আমতলীতে রাতের আঁধারে খাল খনন-গাছ কেটে সাবাড়, এলাকাবাসীর বিক্ষোভ

২৬ May ২০২৬ Tuesday ২:৩৬:৫৬ PM

Print this E-mail this


আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:

আমতলীতে রাতের আঁধারে খাল খনন-গাছ কেটে সাবাড়, এলাকাবাসীর বিক্ষোভ

বরগুনার আমতলী উপজেলায় রাতের আঁধারে কালিপুরা খাল খাল খনন ও খালের দুই পাড়ের গাছ কেটে সাবাড় করার অভিযোগ উঠেছে কুকুয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান মো. কায়েসুর রহমান ফকুর বিরুদ্ধে। খাল খননকাজে অনিয়ম বন্ধের দাবিতে আজ মঙ্গলবার বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্র বলেছে, আমতলী উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় গত এপ্রিলে আমতলীর কুকুয়া ইউনিয়নের কালিপুরা খালের দুই হাজার ৫০০ মিটার খাল খননের জন্য দরপত্র আহ্বান করে। ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ওই খনন কাজ পান কুকুয়া ইউনিয়ন পরিষদ সাবেক চেয়ারম্যান মো. কায়েসুর রহমান ফকু। ২০ মে তিনি খনন কাজ শুরু করেন। তবে সেচ দিয়ে খাল খনন করার কথা থাকলেও তিনি সেচ না দিয়ে দায়সারা ভরা খাল খনন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া খাল খনন করতে গিয়ে তিনি ভেকু মেশিন দিয়ে খালের দুই পাড়ের হাজার হাজার গাছ কেটে ফেলছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা এতে বাধা দিলেও তিনি কথা শুনছেন না। গত তিন দিন ধরে তিনি রাতের আঁধারে খাল খনন করছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, খাল খননের নামে সাবেক চেয়ারম্যান হরিলুট করছেন। 

স্থানীয় বাসিন্দা মাওলানা আব্দুল জব্বার, নাদিম আহম্মেদ, রাসেল ও খলিল বলেন, খাল কাটার নামে সাবেক চেয়ারম্যান কায়েসুর রহমান ফকু হরিলুট করছেন। খাল সেচ না দিয়েই রাতের আঁধারে খনন করছেন। খালের দুই পাড়ে ভেকু মেশিন দিয়ে হাজার হাজার গাছ কেটে ফেলেছেন। এ খাল খননে কৃষকদের কোনো উপকারে হবে না। উল্টো গাছ কেটে তিনি খাল পাড়ের মানুষের ক্ষতি করেছেন। খাল খননে সব অনিয়ম দ্রুত বন্ধের দাবি জানান তাঁরা।

স্থানীয় বাসিন্দা মুনসুরা বলেন, ‘মোর কয়ডা গাছ আলহে হেইয়া মেশিন দিয়া কাইটা ফালাইছে। রাইতে ভরা খাল কাডে। এ্যারে কয় ক্যামন খাল কাডা। মুই এইরহম খাল কাডা মোর বয়সে দেহি নাই।’ 

কুকুয়া ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. আব্দুল আউয়াল ও তাসলিমা বেগম বলেন, ‘সাবেক চেয়ারম্যান প্রভাব খাটিয়ে রাতের আধারে ভরা খাল খনন করছেন। তাঁর এমন অনিয়মের বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলীকে জানিয়েছি কিন্তু তিনি অভিযোগ আমলে নিচ্ছেন না।’

তবে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে কুকুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কায়েসুর রহমান ফকু বলেন, ‘উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের পরিকল্পনা মতোই খাল খনন করছি। এগুলো সব মিথ্যা কথা। তবে ভেকু মেশিন দিয়ে খাল খনন করতে দু’একটি গাছ কাটা পড়েছে।’ 

আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস আলী বলেন, সেচ না দিয়ে রাতের আঁধারে খাল খননের খবর পেয়ে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সঠিকভাবে কাজ না হলে ওই খাল আর খনন করা হবে না। 

আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, বিষয়টি জেনে উপজেলা প্রকৌশলীকে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

Explore More Districts