
ইসলামাবাদ, ৪ আগস্ট – আজাদ কাশ্মিরের নির্বাচন এবং সাম্প্রতিক সংঘাত নিয়ে হলুদ সাংবাদিকতার অভিযোগে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে পাকিস্তান। যদিও প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়নি, তবে গত ৩ আগস্ট থেকে দেশটির কোথাও আলজাজিরার ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা যাচ্ছে না বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে আলজাজিরার বিরুদ্ধে মনগড়া প্রতিবেদন প্রকাশের অভিযোগ তুলেছে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, মুজাফফরাবাদের কিছু ভোটকেন্দ্রের তথ্য এবং নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে আজাদ কাশ্মিরের বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার করা হয়েছে।
এই ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশের পেছনে বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে মনে করছে পাকিস্তান সরকার। উল্লেখ্য, আজাদ কাশ্মিরে বিধানসভা নির্বাচনের আগে শরণার্থী কোটা বাতিলের দাবিতে স্থানীয় রাজনৈতিক জোট জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি দীর্ঘ সময় ধরে আন্দোলন করছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত জুন মাসে এই জোটটিকে নিষিদ্ধ করে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার। এরই মাঝে পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন আজাদ কাশ্মিরের তিন জেলায় তিন ধাপে ভোটগ্রহণের তফসিল ঘোষণা করে। সূচি অনুযায়ী ২৭ জুলাই, ২ আগস্ট এবং ১০ আগস্ট ভোট হওয়ার কথা থাকলেও প্রথম দিনেই নিরাপত্তা বাহিনী ও স্থানীয়দের সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জনের প্রাণহানি ঘটে।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি হলে আলজাজিরার প্রতিবেদন নিয়ে আপত্তি তোলে পাকিস্তান। সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস পাকিস্তান শাসিত কাশ্মিরে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার অবনতি এবং ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সংস্থাটি পাকিস্তান সরকারের প্রতি সাংবাদিকদের ওপর চাপ বন্ধ করার এবং স্বাধীন সংবাদ পরিবেশনের সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। বর্তমানে আজাদ জম্মু-কাশ্মিরের বিধানসভায় ৫৩টি আসন রয়েছে, যার মধ্যে ৩৩টিতে স্থানীয়রা সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পান।
এস এম/ ৪ আগস্ট ২০২৬




