দলের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধে জড়ালে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন। তিনি বলেন, অপরাধে জড়িত নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অন্যায়কারী দলের ছোট-বড় যে পর্যায়ের নেতাই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনার পক্ষে যুবদল।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে যশোর টাউন হল ময়দানে জেলা যুবদলের উদ্যোগে সংগঠনটির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নূরুল ইসলাম নয়ন বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে অপরাধে জড়িত যুবদলের নেতা-কর্মীদের শোকজ ও বহিষ্কার করা হয়েছে। কোথাও কোথাও কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়েছে। অপরাধ আড়াল করা কিংবা অপরাধীকে রক্ষার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, বিএনপিকে ভোট দেওয়া বা না দেওয়া—নির্বিশেষে সব নাগরিক বিএনপি সরকারের কাছে সমানভাবে নিরাপদ থাকবেন। সরকারকে মানবিক ও কল্যাণকর রাষ্ট্র গঠনে কাজ করতে হবে। জনগণের দোরগোড়ায় রাষ্ট্রীয় সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে যুবদল সরকারকে সহযোগিতা করবে।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে নয়ন বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জনগণের আস্থা ধরে রাখতে নেতা-কর্মীদের ধৈর্য ধরতে হবে। সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলায়ও সতর্ক থাকতে হবে।
সমাবেশে প্রধান বক্তা যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ১৯৭৮ সালের ১৯ অক্টোবর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যুবসমাজকে সংগঠিত করে দক্ষ, উৎপাদনমুখী ও দেশপ্রেমিক জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে যুবদল প্রতিষ্ঠা করেন। ‘যুব ও প্রগতি’ মূলমন্ত্র ধারণ করে সাম্য ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সংগঠনটির লক্ষ্য।
তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করতে একটি মহল অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এসব অপচেষ্টার বিরুদ্ধে যুবদল রাজপথে থেকে মোকাবিলা করবে।
যশোর জেলা যুবদলের আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম তমাল আহমেদের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন যুবদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সাব্বির আহমেদ দিপু, যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন এবং জেলা ছাত্রদলের নেতা কামরুল জামান বাপ্পী।
দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হয়েছে। এ অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হলে নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে থাকতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে এম তমাল আহমেদ বলেন, দেশ গঠন ও যেকোনো ধরনের অরাজকতা মোকাবিলায় বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। এ সময় তিনি পাড়া-মহল্লায় সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

জেলা ছাত্রদলের নেতা কামরুল জামান বাপ্পী বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরা আবার সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করলে ছাত্রদল ও যুবদল প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
সমাবেশ পরিচালনা করেন জেলা যুবদলের সদস্য সচিব আনসারুল হক রানা। এতে যশোরের বিভিন্ন উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।


