মাদ্রাসায় শিশুসুরক্ষা: অস্বীকার ও দোষারোপের বৃত্ত ভেঙে সমাধানের পথে

মাদ্রাসায় শিশুসুরক্ষা: অস্বীকার ও দোষারোপের বৃত্ত ভেঙে সমাধানের পথে

এখানে এসে প্রশংসার সুর ছেড়ে কিছু কঠিন কথায় যেতে হবে, কারণ সেটাই সত্যিকারের শুভাকাঙ্ক্ষীর কাজ। স্বীকৃতি এসেছে, কিন্তু তার সঙ্গে জবাবদিহির কাঠামো কতটা এসেছে?

একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে কোথায় জানাতে হবে? শিশুটি কার কাছে মুখ খুলবে, যখন অভিযুক্ত ব্যক্তি একই সঙ্গে তার শিক্ষক, আবাসিক অভিভাবক এবং ধর্মীয় কর্তৃত্বের প্রতীক? প্রতিটি আবাসিক মাদ্রাসায় কি লিখিত ‘শিশুসুরক্ষা নীতি’ আছে? শিক্ষক নিয়োগের আগে তাঁর ব্যক্তিগত পটভূমি যাচাই হয়? রাতে ঘুমানোর ব্যবস্থায় কি প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুর পৃথক জায়গা নিশ্চিত করা হয়?

যেসব প্রতিবেদন আমরা সংবাদমাধ্যমে পড়েছি, তাতে বারবার একটি ভয়াবহ প্যাটার্ন দেখা যায়: ভয়ভীতি দেখানো, ‘বিশেষ পড়া’ বা সেবার অজুহাতে ডেকে নেওয়া, তারপর দীর্ঘ নীরবতা। নির্যাতনের চেয়েও ভয়াবহ হলো শিশুর কান্না বিশ্বাস না করার সংস্কৃতি। শিশুকে যে ভরসা দেওয়ার কথা, সে আস্থার জায়গায় নেমে আসে অন্ধ শাসন।

আরেকটি বিপদ হলো ‘প্রতিষ্ঠানের সম্মান’ নামের ঢাল। ঘটনা চাপা দেওয়া, সালিস করে আপস-মীমাংসা করা, শিক্ষককে চুপচাপ বদলি বা বরখাস্ত করে বিদায় করা—এসবের পরিণতি একটাই: অপরাধী অন্য কোথাও গিয়ে আবারও শিক্ষক হন। যে ধর্মীয় সমাজ নিজেকে নৈতিকতার রক্ষক মনে করে, তার জন্য এটি সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

ঘটনা ঢাকলে সম্মান বাঁচে না; সম্মান যায় তখনই, যখন সমাজ জানতে পারে যে অপরাধ ঢাকার চেষ্টা হয়েছিল। শারীরিক শাস্তির প্রশ্নটাও এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। শিক্ষাদানের নামে সহিংসতা স্বাভাবিক হয়ে গেলে যৌন নিপীড়নের মতো নিষ্ঠুরতার জন্যও মনস্তাত্ত্বিক আবহ তৈরি হয়।

Explore More Districts