সাঈদীর মামলার বাদীকে দাফনে দিনভর বাধা, গভীর রাতে কবর খুঁড়লেন মেয়ে-বোন

সাঈদীর মামলার বাদীকে দাফনে দিনভর বাধা, গভীর রাতে কবর খুঁড়লেন মেয়ে-বোন

২৫ October ২০২৬ Sunday ১১:৫৪:১৪ AM

Print this E-mail this


পিরোজপুর প্রতিনিধি:

সাঈদীর মামলার বাদীকে দাফনে দিনভর বাধা, গভীর রাতে কবর খুঁড়লেন মেয়ে-বোন

পিরোজপুরে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনের প্রস্তুতি চলছে। একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে তাকে দাফনে দিনভর বাধা শেষে পরিবারের পক্ষ থেকে অবশেষে কবর খোঁড়া হচ্ছে। গভীর রাতে লোকজন না পেয়ে মুঠোফোনের আলো জ্বালিয়ে নিজেরাই কবর খুঁড়ছেন মেয়ে ও বোনেরা।

মানিক পশারীর দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তার বোন মোছাম্মৎ রিনা আক্তার বলেন, ‘আমার ভাই মারা গেছেন। প্রথমে আমরা তাকে দাফনের জন্য নিয়ে আসি। কিন্তু দাফন করতে না পারায় আমরা বিপাকে পড়ি। এখন দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছি, কবর খুঁড়ছি।’ 

‎পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর মানিক পশারী গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তার মেয়ের জামাইয়ের কাছে আশ্রয় নেন। গত দুই মাস ধরে তিনি শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন।

‎মৃত্যুর পর শনিবার দুপুরে তার মরদেহ পিরোজপুরে নিয়ে আসা হয়। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়ার জন্য মরদেহ সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে নেওয়া হলে সেখানে স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা জড়ো হন। পরে মরদেহ দাফন ও গার্ড অব অনার দেওয়া নিয়ে বাধার সৃষ্টি হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় পুলিশি পাহারায় মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি পিরোজপুর পুলিশ লাইনে নেওয়া হয়। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সেখানে সাংবাদিকসহ অন্যদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। পরে মানিক পশারীকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়। তবে কখন এবং কোথায় তাকে এ সম্মান দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, মরদেহ দাফনের বিষয়ে প্রশাসনের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পাওয়ায় তারা উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। 

মানিক পশারীর মেয়ের জামাই ফারুক হোসেন জানান, দুপুর ১২টার দিকে তারা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গেলে গার্ড অব অনারের কথা বলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলা হয়। তার অভিযোগ, দীর্ঘ সময় সাধারণ অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহ রাখার পর গোপনে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে। এরপর মরদেহ কোথায় দাফন করা হবে, তা নিয়ে পরিবার অনিশ্চয়তায় পড়ে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের পর নিজ বাড়িতে দাফনের উদ্যোগ নেওয়া হলে স্থানীয় কিছু নেতাকর্মী ও সমর্থক আবারও জড়ো হয়ে বাধা দেন। পুলিশ লাইন থেকে শংকরপাশা যাওয়ার বিভিন্ন পয়েন্টেও লোকজনের জড়ো হওয়ার খবর পাওয়া যায়।

‎পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মানিক পশারী ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তাকে কোনোভাবেই গার্ড অব অনার দিতে দেওয়া হবে না। পিরোজপুরের মাটিতে তার মরদেহ দাফন করতে দেওয়া হবে না।

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, মানিক পশারীকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

‎সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইফতেখারুল ইসলাম শামীম বলেন, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মানিক পশারীকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ‎মানিক পশারী পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। শনিবার সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। ২০০৯ সালের ১২ আগস্ট পিরোজপুর থানায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা করেন মানিক। পরবর্তী সময়ে মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর বিরুদ্ধে চলা মূল মামলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়।

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

Explore More Districts