অমৃতসর থেকে পিস্তল ও ২০টি কার্তুজ সংগ্রহ
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, অন্য একটি মামলায় সম্প্রতি জামিন পেয়েছিলেন কুণাল (১৯)। সেই সময় হরিয়ানার হরসানা গ্রামের এক বন্ধুর মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে অনিল পণ্ডিতের পরিচয় হয় বলে অভিযোগ। এরপর একটি এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে দুজনের যোগাযোগ শুরু হয়। পুলিশের দাবি, পণ্ডিতের নির্দেশে সুমিতকে সঙ্গে নিয়ে অমৃতসর থেকে ১টি পিস্তল ও ২০টি কার্তুজ সংগ্রহ করেছিলেন কুণাল।
মুম্বাইয়ের উদ্দেশে রাধা ও ববিতা
তদন্তকারীদের সন্দেহ, অস্ত্র মুম্বাইয়ে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল রাধা ও ববিতাকে। ১৫ অক্টোবর তাঁরা ট্রেনে করে মুম্বাইয়ের উদ্দেশে রওনা হন। অভিযোগ, কুণাল তাঁদের নয়াদিল্লি রেলস্টেশনে পৌঁছে দেন। সেখান থেকে তাঁরা মুম্বাইগামী ট্রেনে ওঠেন। পিস্তলটি রাধার ব্যাগে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বলে পুলিশের দাবি। যাত্রাপথেও এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন কুণাল। এ অভিযানের বিষয়ে তাঁদের নির্দেশও দিচ্ছিলেন তিনি।
মুম্বাইয়ে হোটেলে উঠেছিলেন দুই নারী
১৭ অক্টোবর মুম্বাইয়ে পৌঁছে দাদর রেলস্টেশনে নামেন রাধা ও ববিতা। এরপর তাঁরা একটি হোটেলে ওঠেন। পুলিশ সূত্রের দাবি, পরে এক নাবালক হোটেলের কাছে রাধার কাছ থেকে সেই ব্যাগটি নিয়ে যায়। ব্যাগের মধ্যেই ছিল অস্ত্র। পরদিন অর্থাৎ ১৮ অক্টোবর, মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। অভিনেতা অক্ষত থাকলেও তাঁর চালক ফিরদৌস এবং ঘটনাস্থলে থাকা এক অটোরিকশাচালক গুলিবিদ্ধ হন। তাঁদের হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তিরা কী জানিয়েছেন?
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, বলিউডের একাধিক তারকার বাড়ির আশপাশে তাঁরা ঘোরাফেরা করতেন এবং নজরদারি চালাতেন। এ জন্য অটোচালকদের প্রায় এক হাজার টাকা দিয়ে তারকাদের বাড়ির আশপাশে ঘুরতেন তাঁরা। কখনো কখনো গুগলে খোঁজ করেও তারকাদের বাড়ির ঠিকানা বের করতেন। এরপর সেই ঠিকানা ব্যবহার করে বাড়িগুলোর ওপর নজর রাখতেন।
তদন্তকারীরা এখন অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গতিবিধি, তাঁদের সংগ্রহ করা তথ্য এবং সম্ভাব্য নিশানার বিষয়ে খোঁজখবর করছেন। এই ঘটনায় মুম্বাই পুলিশের অপরাধ দমন শাখা ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১১১ নম্বর ধারা যুক্ত করেছে। এই ধারা সংগঠিত অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত।

