দক্ষিণ সিটির ৭৫টি ওয়ার্ডের বাসাবাড়ির ময়লা প্রথমে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন বা এসটিএসে আনা হয়। সেখান থেকে গাড়িতে করে নেওয়া হয় মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে। বর্জ্য পরিবহন ও ল্যান্ডফিলে ব্যবস্থাপনা মিলিয়ে ব্যবহৃত হয় ২৩৭টি যান-যন্ত্রপাতি। এর মধ্যে বর্জ্য বহনের গাড়ির পাশাপাশি ল্যান্ডফিলে ব্যবহৃত যন্ত্রও রয়েছে।
বর্জ্য বহনের জন্য ৩, ৫, ১০, ১৫ ও ২০ টন ধারণক্ষমতার গাড়ি ব্যবহার করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এসব গাড়ি প্রতি রাতে তিন থেকে চারবার এসটিএস থেকে মাতুয়াইলে যাতায়াত করে। তবে ইউনিয়ন সভাপতি শাহ আলম তালুকদারের দাবি, বর্জ্য পরিষ্কার করতে ন্যূনতম চারটি ট্রিপ প্রয়োজন হয়; কোনো গাড়ি পাঁচ ট্রিপও দেয়।
গাড়ি ও যাত্রাপথ অনুযায়ী, প্রতি ট্রিপে ৮ থেকে ১৪ লিটার জ্বালানি বরাদ্দ থাকে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রয়োজনের তুলনায় ট্রিপপ্রতি তিন থেকে চার লিটার পর্যন্ত বেশি বরাদ্দের সুযোগ নিয়ে তেল সরানো হয়। বরাদ্দের পুরো তেল গাড়িতে না তুলে বাকি অংশ কম দামে পাম্পেই বিক্রি করে দেওয়া হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাম্পে কর্মরত একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, করপোরেশনের চালকদের কিছুটা কম দামে তেল বিক্রির বিষয়টি সবাই জানেন। এটা নিয়ে লুকোচুরির কিছু নেই।
পৌর ফিলিং স্টেশনে কথা হয় স্থানীয় এক ব্যক্তির সঙ্গে। লেনদেনের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, কোনো ট্রিপে ১২ লিটার বরাদ্দ থাকলে চালক ৮ বা ৯ লিটার তেল নেন। বাকি তেলের জন্য টাকা জমা থাকে। পাম্পের লোকেরা কাগজে হিসাব লিখে রাখেন। মাসের মাঝামাঝি বা শেষে মূল চালককে টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, গাড়ি অন্য কেউ চালালেও টাকার হিসাব থাকে মূল চালকের নামে।

