২৪ বছর বৃক্ষরোপণের পর অবসরের ঘোষণা বৃক্ষপ্রেমী কোমলের

২৪ বছর বৃক্ষরোপণের পর অবসরের ঘোষণা বৃক্ষপ্রেমী কোমলের

দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে যশোরের বিভিন্ন সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনপদে ফলজ গাছের চারা রোপণ করে আসছেন বৃক্ষপ্রেমী সেলিম শাহ্ কোমল। বয়স ৬০ পেরোনোয় এবার বৃক্ষরোপণের কর্মযজ্ঞ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। তবে রোপণ করা গাছগুলোর পরিচর্যা আরও পাঁচ থেকে ছয় বছর চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন এই বৃক্ষপ্রেমী।

সেলিম শাহ্ কোমল যশোর সদর উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের তেঘরিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজ সরকারের ছেলে। দুই সন্তানের জনক কোমল ২০০২ সালে নতুনহাট বাজার এলাকার সড়কের পাশে ৯০টি আমগাছের চারা রোপণের মধ্য দিয়ে তাঁর এ উদ্যোগ শুরু করেন। পরে জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিয়ে বৃহৎ পরিসরে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম চালিয়ে যান তিনি।

প্রতি বছর প্রায় ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সড়কের দুই পাশে ফলজ গাছের চারা রোপণ করেছেন কোমল। যশোর সদরের নতুনহাট, বাজে দুর্গাপুর, এড়েন্দা, নারাঙ্গালি ও হালসা বাজারসহ বিভিন্ন এলাকার সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে তাঁর লাগানো গাছ রয়েছে। এ ছাড়া নতুনহাট-ডুমদিয়া, তেঘরিয়া-ধোপাখোলা সড়ক, যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের নতুনহাট-লাউজানি অংশ, ঝিকরগাছার জয়কৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও গাজীর দরগাহ ইয়াতিম কমপ্লেক্সেও বৃক্ষরোপণ করেছেন তিনি।

এ বছরও ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে কপোতাক্ষ নদ পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে ৩০০টি ফলজ গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছেন কোমল। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেছেন, আনুষ্ঠানিকভাবে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শেষ করতে চাইলেও আগে লাগানো গাছগুলোর পরিচর্যা অব্যাহত রাখবেন।

গত ১৪ অক্টোবর বুধবার সকাল ১০টায় যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের লাউজানি রেলক্রসিং চত্বরে গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি অবসরের ঘোষণা দেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও দৈনিক আজকের পত্রিকার ঝিকরগাছা প্রতিনিধি এম আর মাসুদ, ঝিকরগাছা প্রেসক্লাবের সহসভাপতি আতাউর রহমান জসি, মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক কে এম ইদ্রিস আলী, ডেইলি ঢাকা পোস্টের যশোর প্রতিনিধি রেজওয়ান বাপ্পি, লাউজানি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজা, জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার এম এ মঞ্জু, গাজীর দরগাহ সিনিয়র মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মাওলানা আশরাফুল ইসলামসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ, অক্সিজেন সরবরাহ, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং মাটির ক্ষয় রোধে গাছের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই বৃক্ষরোপণ শুধু সামাজিক দায়িত্ব নয়, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষারও অন্যতম উপায়।

বক্তারা দীর্ঘদিন ধরে বৃক্ষরোপণে অবদান রাখায় সেলিম শাহ্ কোমলের প্রশংসা করেন এবং তাঁকে পরিবেশ পদকের জন্য মনোনীত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

Explore More Districts