বাকেরগঞ্জের ৫০০ বছরের প্রাচীন ক্ষুদ্র মসজিদ

বাকেরগঞ্জের ৫০০ বছরের প্রাচীন ক্ষুদ্র মসজিদ

১০ October ২০২৬ Saturday ১:৪৩:৫১ PM

Print this E-mail this


বাকেরগঞ্জ ((বরিশাল) প্রতিনিধি:

বাকেরগঞ্জের ৫০০ বছরের প্রাচীন ক্ষুদ্র মসজিদ

মসজিদের নাম এলে সবার আগে মাথায় আসে বড় স্থাপনা ও গম্বুজের ছবি। কিন্তু বরিশালের বাকেরগঞ্জের রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের রুনশি গ্রামে রয়েছে ক্ষুদ্রাকৃতির প্রাচীন মসজিদ, যা স্থানীয়ভাবে পাঞ্জেগানা মসজিদ নামে পরিচিত। প্রায় ৫০০ বছর আগে মোগল আমলে এটি নির্মাণ করা হয় বলে দাবি স্থানীয়দের। তবে মসজিদটির নির্মাণের বিষয়ে প্রত্নতাত্ত্বিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মসজিদটিতে এখনো পাঁচ ওয়াক্ত আজান দেওয়া হয় এবং মুসল্লিরা নামাজ আদায় করেন। আকারে ছোট হওয়ায় একসঙ্গে ইমামসহ সর্বোচ্চ চারজন মুসল্লি ভেতরে নামাজ পড়তে পারেন। মুসল্লি বেশি হলে অনেকে বাইরে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন।

জানা গেছে, মসজিদটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ ফুট, প্রস্থ ৪ ফুট এবং উচ্চতা প্রায় ১০ ফুট। প্রবেশদ্বারের উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট। দক্ষিণ পাশে রয়েছে একটি ছোট জানালা। ওপরে রয়েছে ছোট গম্বুজ। মসজিদটি নির্মাণে চুন-সুরকি ও জাফরি ইট ব্যবহার করা হয়। এর নির্মাণশৈলী দেখে স্থানীয়দের অনেকে এটিকে মোগল আমলের স্থাপনা বলে মনে করেন। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা বা সরকারি নথির তথ্য পাওয়া যায়নি।

মসজিদটির রক্ষণাবেক্ষণ করছেন স্থানীয় বাসিন্দা হায়দার আলী। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি, এটি মোগল আমলের মসজিদ। এর সঠিক ইতিহাস জানি না। স্থানীয়দের উদ্যোগেই এটি টিকে আছে। সরকার সংরক্ষণের উদ্যোগ নিলে স্থাপনাটি ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পাবে।

স্থানীয়রা জানান, ২০২৩ সালে মসজিদটির কিছু অংশ স্থানীয় বাসিন্দা কালাম ডাকুয়া নিজ অর্থায়নে সংস্কার করেন। ফলে মসজিদটি বর্তমানে কিছুটা মেরামত অবস্থায় রয়েছে। নামাজের পাশাপাশি জুমা ও বিভিন্ন ধর্মীয় উপলক্ষেও মসজিদটিতে মানুষের সমাগম হয়। এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব নির্ধারণে প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান প্রয়োজন। মসজিদটির প্রকৃত ইতিহাস জানা গেলে এটি সংরক্ষণে উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে।

বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিল্টন চন্দ্র পাল বলেন, মসজিদটির বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে সংস্কার ও সংরক্ষণের জন্য বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহিদুল ইসলাম বলেন, সরকারের পুরাকীর্তি আইন অনুযায়ী, যদি মসজিদটি প্রত্নতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য ধারণ করে, তাহলে দ্রুতই এটিকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

Explore More Districts