বাড়ি থেকে পালিয়ে লজিং মাস্টার

বাড়ি থেকে পালিয়ে লজিং মাস্টার

দেখতে দেখতে কোরবানির ঈদ এসে গেল। গৃহকর্তাকে জানালাম, বাড়ি যেতে চাই। তিনি উত্তরে বললেন, ‘ঈদের আগে আমরা কাউকে যেতে দিই না। এতে আমাদের অমঙ্গল হয়।’

আমি কোরবানির ঈদ করলাম তাঁদের সঙ্গেই।

ঈদের পরদিন রওনা দিলাম নোয়াখালীর কবীরহাটের শ্রীনদ্দী গ্রামে আমাদের বাড়ির উদ্দেশে।

আমার গৃহকর্তা বললেন, ‘খারে চলে আইসস। তোর লায় আঁরার পেট পুড়িব।’ (তাড়াতাড়ি চলে এসো। তোমার জন্য আমাদের পরান পুড়বে)

আমি বললাম, আমাকে চার দেয়ালে বন্দী করে রাখলেও আমি ফিরে আসব।

২.

দেড় মাস পর এক দুপুরে বাড়ি ফিরে এলাম। ঘরে যেন কান্নার রোল উঠল। মা-বাবা, দাদা-দাদি সবাই আমাকে বুকে জড়িয়ে খুব কান্না করেছিল।

শুনলাম আমার খোঁজে ঝাড়ফুঁক, রেডিওতে ঘোষণা—কোনো কিছু বাদ দেওয়া হয়নি।

বাবা স্কুলে ক্লাস নিতে পারতেন না। ক্লাসে গেলেই কান্না করতেন। মা কান্না করতে করতে চোখে রোগ বাধিয়ে ফেলেছিলেন।

এরপর পার হয়ে গেছে জীবনের অনেকটা বছর। নোয়াখালী ও ঢাকায় পড়াশোনা শেষ করে ক্যারিয়ার গড়েছি ব্যাংকে।

আমি আর যাইনি সেই লজিং বাড়িতে, মোহছেন আউলিয়ার মাজারের কাছে, আনোয়ারার আমিন উল্যা পাড়ায়।

তবু মনে পড়ে তাঁদের। আজও মনে পড়ে।

জ. ই রুবেল, অগ্রণী ব্যাংক, রামপুরা টিভি শাখা, ঢাকা

Explore More Districts