
কলকাতা, ৭ অক্টোবর – অভিনেতা ও বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তীকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। নতুন দায়িত্বে তাঁকে ক্যাবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়া হয়েছে এবং সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নিয়োগটি অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কর্মীবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দপ্তরের আইএএস সেল থেকে মিঠুন চক্রবর্তীর নিয়োগ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। সেখানে রাজ্যপালের অনুমোদনক্রমে তাঁকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগের কথা জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে তাঁর পদটির সঙ্গে ক্যাবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদা যুক্ত করার কথাও উল্লেখ রয়েছে। নিয়োগটি কার্যকর হয়েছে অবিলম্বে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে বলে প্রকাশিত সরকারি বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
মিঠুনকে রাজ্য সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর নির্দিষ্ট দায়িত্বের পরিধি ও প্রশাসনিক ভূমিকা পরবর্তী সময়ে আরও স্পষ্ট হতে পারে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়ালের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তির অনুলিপি সংশ্লিষ্ট একাধিক দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর এবং স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দপ্তরও রয়েছে।
মিঠুন চক্রবর্তীকে সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা করার সিদ্ধান্তটি একেবারে হঠাৎ নয়। সাম্প্রতিক একটি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর সাংস্কৃতিক অবদানের কথা উল্লেখ করে এই দায়িত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। পরে সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সেই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিক রূপ পেল।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, উত্তরকুমার শতবর্ষ উদ্যাপনসহ সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রের কিছু বিষয়ে মিঠুনের পরামর্শ নেওয়া হয়েছিল।
প্রায় পাঁচ দশকের অভিনয়জীবনে মিঠুন চক্রবর্তী বাংলা ও হিন্দি চলচ্চিত্রে দীর্ঘ সময় ধরে সক্রিয়। অভিনয়ের পাশাপাশি গত কয়েক বছরে তাঁর রাজনৈতিক উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্য হয়েছে।
২০২১ সালে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন এবং পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে প্রচারে অংশ নেন। এর আগে ২০১৪ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের মনোনয়নে রাজ্যসভার সাংসদ হয়েছিলেন এবং ২০১৬ সালে সেই পদ থেকে ইস্তফা দেন—এ তথ্যও প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে বর্তমান নিয়োগের তাৎপর্য হলো, এবার তিনি সরাসরি রাজ্য সরকারের একটি আনুষ্ঠানিক উপদেষ্টা পদে যুক্ত হলেন। যদিও ক্যাবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদা পাওয়া এবং পূর্ণাঙ্গ ক্যাবিনেট মন্ত্রী হওয়া এক বিষয় নয়—তিনি উপদেষ্টা হিসেবেই নিয়োগ পেয়েছেন।
এই মুহূর্তে তাঁর নতুন দায়িত্বের বিস্তারিত কার্যপরিধি সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তৃতভাবে প্রকাশিত হয়নি। ফলে তিনি ঠিক কোন কোন নীতি, প্রকল্প বা সাংস্কৃতিক উদ্যোগে সরাসরি পরামর্শ দেবেন, তা নিয়ে অনুমান না করাই শ্রেয়।
তবে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় রাজ্যের চলচ্চিত্র, সংস্কৃতি ও সংশ্লিষ্ট সৃজনশীল ক্ষেত্র নিয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সরকারি নিয়োগ ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়েছে। এবার মিঠুন চক্রবর্তী আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করলে তাঁর কাজের নির্দিষ্ট ক্ষেত্র ও প্রশাসনিক ভূমিকা আরও পরিষ্কার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অর্থাৎ, দীর্ঘ অভিনয়জীবনের পর মিঠুনের ক্ষেত্রে এটি সরকারি কাঠামোর মধ্যে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। তবে তাঁর উপদেষ্টা পদটির বাস্তব দায়িত্ব কতটা বিস্তৃত হবে, সেটি পরবর্তী সরকারি নির্দেশনা ও কার্যক্রম থেকেই স্পষ্ট হবে।
FAQ
প্রশ্ন: মিঠুন চক্রবর্তীকে কোন পদে নিয়োগ করা হয়েছে?
উত্তর: তাঁকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।
প্রশ্ন: মিঠুন চক্রবর্তী কি মন্ত্রী হয়েছেন?
উত্তর: তিনি পূর্ণাঙ্গ ক্যাবিনেট মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পাননি; তাঁকে উপদেষ্টা পদে নিয়োগ দিয়ে ক্যাবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।
প্রশ্ন: তাঁর নিয়োগ কবে কার্যকর হয়েছে?
উত্তর: সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নিয়োগটি অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।
প্রশ্ন: মিঠুন কোন দপ্তরের উপদেষ্টা?
উত্তর: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উপদেষ্টা হিসেবে তাঁকে নিয়োগ করা হয়েছে।
প্রশ্ন: মিঠুনের দায়িত্ব কী হবে?
উত্তর: তাঁর নির্দিষ্ট দায়িত্বের পূর্ণ পরিধি এখনও বিস্তারিতভাবে প্রকাশিত হয়নি। পরবর্তী সরকারি নির্দেশনা থেকে তা আরও স্পষ্ট হবে।

