বন্দর রক্ষা কমিটিসহ বিভিন্ন সংগঠনের বিরোধিতার মুখে আগামীকাল বিকেল ৩ টায় চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় চুক্তি স্বাক্ষর হতে যাচ্ছে। ঢাকাস্থ ইনভেস্ট বাংলাদেশ-এর অডিটোরিয়ামে এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের এনসিটি এবং ওভারফ্লো কনন্টেনার ইয়ার্ড (ওসিওয়াই) পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এ চুক্তি হচ্ছে। চুক্তির মেয়াদ হবে ১৫ বছর। গত ১ অক্টোবর অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এনসিটি ও ওসিওয়াই পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ১৫ বছরের খসড়া কনসেশন চুক্তির অনুমোদন দেয়। তবে ওই অনুমোদনের সময় বিদেশি অপারেটরের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কাঠামোর আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পিপিপি কর্তৃপক্ষ চুক্তি স্বাক্ষরকে একটি মাইলস্টোন মার্ক হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের মনোনীত প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি উন্নয়ন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কনসেশন দেওয়ার চুক্তি করা হচ্ছে। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ২০৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বলে উল্লেখ রয়েছে।
এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারের আলোচনা বেশ কিছুদিন ধরে চলছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রক্রিয়াটি স্থগিত হয়ে যাওয়ার পর নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। জুন মাসে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনাকারী কমিটিকে সহায়তার জন্য ১২ সদস্যের একটি বিশেষ সহায়ক দল গঠন করে। এর পর থেকে চুক্তির বিভিন্ন শর্ত নিয়ে আলোচনা এগিয়ে যায়।
এনসিটি চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কন্টেনার টার্মিনালগুলোর একটি। ২০২৫ সালে বন্দরের মোট কন্টেনার হ্যান্ডলিংয়ের প্রায় ৪৪ শতাংশ এনসিটির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।
এদিকে এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে চট্টগ্রামে শ্রমিক-কর্মচারী ও বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে বিরোধিতা রয়েছে। গত ৫ অক্টোবর বন্দর ভবনের সামনে এনসিটি ও ওসিওয়াই ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার চুক্তির খসড়া বাতিলের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচি থেকে আগামী ১৩ অক্টোবর বন্দর চেয়ারম্যানের কার্যালয় ঘেরাওয়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক অপারেটরের অভিজ্ঞতা, আধুনিক প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের মাধ্যমে বন্দরের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানও আন্তর্জাতিক অপারেটরের মাধ্যমে দ্রুততর পণ্য হ্যান্ডলিং, আধুনিক প্রযুক্তি এবং বিদেশি বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনার কথা বলেছেন।
এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনালগুলোতে আন্তর্জাতিক অপারেটর যুক্ত করার সরকারি উদ্যোগ আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে। এর আগে পতেঙ্গা কন্টেনার টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সৌদি আরবভিত্তিক রেড সি গেটওয়ে টার্মিনালকে (আরএসজিটি)। পাশাপাশি চিটাগাং কন্টেনার টার্মিনাল (সিসিটি) পরিচালনার জন্যও আরএসজিটিকে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।


