
নয়াদিল্লি, ২৭ সেপ্টেম্বর – ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের ফাগওয়ারায় অবস্থিত লাভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটিতে (LPU) এক ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন—এমন খবর ছড়িয়ে পড়তেই দাবানলের মতো জ্বলে উঠল তীব্র ছাত্র ক্ষোভ। ক্যাম্পাসে প্রদর্শনের জন্য রাখা ভারতীয় বিমানবাহিনীর মিগ-২৩ইউএম যুদ্ধবিমান ও সাঁজোয়া সামরিক ট্যাংকের ওপর চড়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে তুমুল বিক্ষোভ ও আন্দোলন করতে দেখা গেছে। মুহূর্তে এই নজিরবিহীন আন্দোলনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে এই চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
মিগ যুদ্ধবিমান ও ট্যাংকের ওপর শিক্ষার্থীরা, অগ্নিকাণ্ড ও ধ্বংসযজ্ঞ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে সংরক্ষিত ঐতিহাসিক যুদ্ধবিমান ও সামরিক ট্যাংকের ওপরে উঠে স্লোগান দিচ্ছেন। অন্য কিছু ফুটেজে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবনের কাচ, ফুলের টব ও ক্যাফেটেরিয়া ভাঙচুর করার পাশাপাশি ক্যাম্পাসের নানা জায়গায় আগুন ধরিয়ে দিতে দেখা যায়।
শিক্ষার্থীদের মারাত্মক অভিযোগ—গত ২৪ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) জি৩ হোস্টেলের এক ছাত্রী বহিরাগত কোনো নির্মাণশ্রমিকের হাতে ধর্ষণের শিকার হয়ে বাড়ি ফিরে যান। বিষয়টি তৎক্ষণাৎ হোস্টেল ওয়ার্ডেনকে জানানো হলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, যার ফলে জমে থাকা ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে।
“সবই ভিত্তিহীন গুজব”— দাবি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের
তবে ধর্ষণের এই মারাত্মক অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উড়ো খবর বলে উড়িয়ে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এলপিইউ-এর রেজিস্ট্রার মনিকা গুলাটি এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানান— অনলাইনে যে ধর্ষণের দাবি করা হচ্ছে, তার পেছনে বিন্দুমাত্র কোনো সত্যতা বা তথ্যপ্রমাণ নেই। কিছু ‘সমাজবিরোধী চক্র’ জনমনে আতঙ্ক ছড়াতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাল্পনিক খবর রটাচ্ছে। সাধারণ মানুষ, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্তিকর গুজবে কান না দিয়ে কেবল অফিশিয়াল তথ্যের ওপর আস্থা রাখতে বলা হয়েছে।
পুলিশের তদন্ত ও বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন
ঘটনার ভয়াবহতা দেখে দ্রুত পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। কাপুরথলার জ্যেষ্ঠ পুলিশ সুপার (এসএসপি) গৌরব তুরা জানান, প্রাথমিকভাবে গুজবের জেরে এই তাণ্ডব হলেও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।
জলন্ধর রেঞ্জের ডিআইজি নবীন সিংলা জানান:
এফআইআর দায়ের: ভুক্তভোগী দাবি করা ছাত্রীর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির নামে একটি আনুষ্ঠানিক এফআইআর (FIR) রুজু করা হয়েছে।
এসআইটি (SIT) গঠন: ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তে ফাগওয়ারার এসপি মেজর সিংয়ের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে।
ফরেনসিক বিশ্লেষণ: ক্যাম্পাসের সব সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ, ফোন কল রেকর্ডস ও ফরেনসিক আলামত বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ছাত্রপ্রতিনিধিদের সরাসরি সঙ্গে রেখেই পুরো তদন্ত সম্পন্ন করা হবে।
বর্তমানে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছে এবং থমথমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।
এনএন/ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


