যশোরের ঝিকরগাছায় সাদিয়া আক্তার (১৩) নামে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, মৃত্যুর আগে ওই কিশোরীকে স্থানীয় এক যুবক বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করতেন। তাকে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন নিহতের মা। তবে পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
নিহত সাদিয়া আক্তার উপজেলার হাজিরবাগ ইউনিয়নের দেউলী গ্রামের ভ্যানচালক শহিদুল ইসলামের মেয়ে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে বাড়িতে তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়ার পর স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে ঝিকরগাছা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য যশোরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।
নিহতের মা সালমা খাতুনের অভিযোগ, হুমায়ুন কবির ওরফে ভোলা (৩০) তার মেয়েকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করতেন। ঘটনার কয়েক দিন আগেও তিনি মেয়ের হাতে ওই যুবককে কিছু দিতে দেখেছেন বলে দাবি করেন। ঘটনার দিন সাদিয়ার বাবা-মা দুজনই বাড়ির বাইরে ছিলেন। পরে প্রতিবেশীরা তাকে ঘরের ভেতর অচেতন অবস্থায় দেখতে পান।
পরিবারের অভিযোগের পর গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে স্থানীয় লোকজন হুমায়ুন কবিরকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেয়। তবে পরদিন তাকে পাঁচ ব্যক্তির জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয় বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
সন্দেহভাজনকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে ঝিকরগাছা থানার ওসি তদন্ত ইদ্রিস আলী বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে লিখিত জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের ভাষ্য, ঘটনার পর প্রথমে নিহতের পরিবার মামলা বা ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ ফেরত চেয়েছিল। তবে আইনগত বিষয় বিবেচনায় মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। পরে অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।
নিহতের বাবা শহিদুল ইসলাম ও মা সালমা খাতুনের দাবি, তারা বিষয়টি নিয়ে আদালতেরও দ্বারস্থ হয়েছেন। তবে আদালতে করা মামলাটি নিয়মিত মামলা হিসেবে থানায় রেকর্ড হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি তদন্ত বিষয়টি স্পষ্ট করেননি।
পরিবার ও স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, হুমায়ুন কবির মাদকাসক্ত ছিলেন এবং তিনি সাদিয়াকে বিভিন্ন সময় উত্ত্যক্ত করতেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নিহতের স্বজন ও প্রতিবেশীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং প্রতিবেদন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


