সানন্দবাড়ীতে জাল নথি ব্যবহার করে জমি নামজারির চেষ্টার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন – দৈনিক আজকের জামালপুর







রশীদুল আলম শিকদার
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চর আমখাওয়া ইউনিয়নের সানন্দবাড়ী পশ্চিম পাড়ায় নামের মিল থাকার সুযোগ নিয়ে মৃত দুই ভাইকে একই ব্যক্তি বানিয়ে বড় ভাসুরের সম্পত্তি আত্মসাতের অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে সুমাইয়া আক্তার নামের এক গৃহবধূর বিরুদ্ধে। জাল নথি ব্যবহার করে জমি নামজারির চেষ্টার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করে এর প্রতিকার চেয়েছেন ভুক্তভোগী ও প্রকৃত ওয়ারিশগণ। গতকাল মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় সানন্দবাড়ী প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মো. মজিবর রহমান। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, তাঁদের বাবা মরহুম আব্দুল করিম ৫ পুত্র ও ৭ কন্যাসন্তানের জনক ছিলেন। পুত্ররা হলেন— ১) হাসেন আলী, ২) আশেক আলী, ৩) আশ্রাব আলী ওরফে আশ্রব, ৪) আশরাফ আলী এবং ৫) মজিবর রহমান। আব্দুল করিম জীবিত থাকতেই তাঁর স্থাবর সম্পদের একটি অংশ ছেলেদের নামে দলিল করে দেন। এর কিছুদিন পর পরিবারের ৩য় সন্তান আশ্রাব আলী কিশোর বয়সে টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে অবিবাহিত অবস্থায় মারা যান। ফলে তাঁর নামীয় জমি খতিয়ানে ‘আশ্রাব ওরফে আশ্রব নামেই থেকে যায়। আইন অনুযায়ী অবিবাহিত ও সন্তানহীন আশ্রাবের সম্পদের প্রকৃত ওয়ারিশ হন তাঁর মা, বাকি ৪ ভাই এবং ৭ বোন।
পরবর্তী সময়ে পরিবারের ৪র্থ সন্তান আশরাফ আলী স্ট্রোকজনিত কারণে মারা গেলে তাঁর স্ত্রী সুমাইয়া বেগম ও একমাত্র সন্তানের যাবতীয় পাওনাদি ও সম্পত্তি সঠিকভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মৃত বড় ভাই ‘আশ্রাব’ এবং নিজ স্বামী ‘আশরাফ’— এই দুই নামের মিল থাকার সুযোগ নিয়ে প্রতারণার জাল বোনেন ছোট ভাই আশরাফের স্ত্রী সুমাইয়া। তিনি তথ্য গোপন করে ভাসুর আশ্রাব ও স্বামী আশরাফকে একই ব্যক্তি হিসেবে দেখিয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছ থেকে ভুয়া প্রত্যয়নপত্র ও ওয়ারিশনামা বাগিয়ে নেন। পরবর্তীতে উক্ত প্রত্যয়নের ভিত্তিতে আদালত থেকে একটি নোটারি/এফিডেভিটও সম্পাদন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মজিবর রহমান বলেন, “পৃথক দুই ব্যক্তির নামে রেকর্ডকৃত জমিকে জালিয়াতির মাধ্যমে একই ব্যক্তির জমি বানিয়ে সুমাইয়া বেগম নিজেদের নামে খারিজ করার জোর পাঁয়তারা চালাচ্ছেন। এতে কিশোর বয়সে মারা যাওয়া আশ্রাবের অন্য প্রকৃত আইনি ওয়ারিশরা (মা, জীবিত ভাই ও বোনেরা) অধিকার বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ওয়ারিশগণ এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ভুয়া ওয়ারিশ সনদ ও প্রত্যয়নপত্র অবিলম্বে বাতিল, নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা এবং পৈতৃক সম্পত্তির সঠিক বণ্টন নিশ্চিত করতে ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও এলাকার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।


Explore More Districts