সরিষাবাড়ীতে হাতিকে ভয়ের ‘অস্ত্র’ বানিয়ে চলছে চাঁদাবাজি । দিতে হয়ে চাহিদা মতো টাকা । আতঙ্কে মানুষ – দৈনিক আজকের জামালপুর







মোস্তাক আহমেদ মনির
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে অভিনব কায়দায় ও কৌশলী চাঁদাবাজির এক নতুন এবং আতঙ্কজনক চিত্র উঠে এসেছে। একটি প্রশিক্ষিত হাতিকে ব্যবহার করে সাধারণ পথচারী, যানবাহন চালক এবং স্থানীয় দোকানদারদের জিম্মি করে জোরপূর্বক টাকা আদায় করা হচ্ছে। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে প্রকাশ্যে মানুষকে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করলেও প্রয়োজনীয় কোন ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি চক্র দিনের বেলায় লোকালয়ের রাস্তায় বা বাজারে হাতি নিয়ে নেমে পড়ে। হাতির মাহুত (পরিচালক) হাতির শুঁড় বাড়িয়ে পথচারীদের দিকে ইশারা করেন, যা সাধারণ মানুষের কাছে একপ্রকার প্রাণনাশের হুমকির মতো মনে হয়। এই ভয় দেখিয়ে তারা মানুষের কাছ থেকে টাকা বা অন্য কোনো দান-দক্ষিণা আদায় করতে বাধ্য করে। হাতিটি বেশ বড়-শক্তিশালী হওয়ায় ভয় ও আতঙ্কে সাধারণ মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, জনবহুল গ্রামীণ রাস্তায় হাতিটি দাঁড়িয়ে আছে। তার পিঠে একজন মাহুত বসা। হাতির সামনে দিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে দাঁড়ানো এক ব্যক্তি আতঙ্কিত হয়ে ভয়ে টাকা বের করে দিচ্ছিন। এভাবেই অটোভ্যান, অটোরিকশা, সহ বিভিন্ন ছোট বড় যানবাহন দাড় করিয়ে নেয়া হচ্ছে টাকা। টাকা না দিলে হাতির শুর দিয়ে আঘাত ও হাতির ডাক ছুটিয়ে ভয় ও আতঙ্কিত করা হচ্ছে মানুষকে। ফলে ভয়ের বশবর্তী হয়ে বাধ্য হয়েই টাকা দিচ্ছেন তারা। আবার মাহুতের চাহিদা বা পছন্দ মতো টাকা না দিলে হাতিকে দিয়ে ফেলে দেয়া হচ্ছে টাকা। তাই একরকম ভয়ের কারনে বাধ্য হয়েই তাদের চাহিদা মতো দিতে হচ্ছে টাকা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আজাদ মোল্লা বলেন, “আমরা ব্যবসা করতে এসে হাতির ভয়ে তটস্থ থাকি। যখন হাতিটি দোকানের সামনে আসে এবং শুঁড় তোলে, তখন ভয়ে টাকা দিয়ে দেই। টাকা পছন্দ না হলে ছুড়ে ফেলে দিয়ে হাতির ডাক ছাড়ে। জীবনের ভয়েই দিতে হয়।
অটোরিক্সা চালক মনিরুজ্জামান কিনু তাকুকদার বলেন, যাত্রী নিয়ে যাওয়া আসার সময় হাতি সামনে দাড়ায়। ছোট ছোট বাচ্চা ও গাড়ীতে থাকা যাত্রীরা ভয় পেয়ে চিৎকার করে। এমন পরিস্থিতিতে টাকা না দিলে হাতির অনিচ্ছাকৃত আঘাতে জানমালের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। এই আতঙ্ক ব্যবহার করেই চক্রটি প্রতিদিন মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সোলাইমান কবীর বলেন, হাতি দিয়ে দোকানে দোকানে চাঁদাবাজির বিষয়টি প্রশাসনিক বিষয়। এ বিষয়ে ইউএনও স্যার পদক্ষেপ নিতে পারেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজা আফসানা বলেন, আমরা এই ধরনের অভিযোগ সম্পর্কে অবহিত হয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। দ্রুত তদন্ত করে হাতির মাহুতকে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


Explore More Districts