মক্কার আকাশে হুতি ড্রোন ভূপাতিত, ‘মক্কা চুক্তি’ কার্যকরের সময় এসেছে: খাজা আসিফ – DesheBideshe



মক্কার কাছে হুতি ড্রোন ভূপাতিতের পর মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফের বক্তব্য
মক্কার দক্ষিণে হুতি ড্রোন ভূপাতিতের পর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ বাস্তবায়ন নিয়ে মন্তব্য করেছেন।

ইসলামাবাদ,১৭ সেপ্টেম্বর- পবিত্র মক্কা নগরীর দক্ষিণে হুতিদের একটি ড্রোন সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করার পর পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা চুক্তি’ কার্যকর করার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। তাঁর ভাষ্য, চুক্তিটি পাকিস্তানের জন্য প্রযোজ্য এবং প্রয়োজন হলে ইসলামাবাদ নিজেদের দায়িত্ব পালন করবে।

বুধবার জিও নিউজের ‘আজ শাহজেব খানজাদা কে সাথ’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে খাজা আসিফ এসব কথা বলেন। তিনি জানান, তিন দেশের যেকোনো একটি দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা বা সীমান্ত লঙ্ঘিত হলে পারস্পরিক প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে চুক্তিতে। এই চুক্তি কখন কার্যকর হবে, তা নিয়ে ‘একেবারেই কোনো অস্পষ্টতা নেই’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে চুক্তির সামরিক বা প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে না বলে জানান পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তার জন্য আলাদা কোনো চুক্তির প্রয়োজন নেই। মক্কা চুক্তি না থাকলেও এসব পবিত্র স্থান রক্ষা করা পাকিস্তানের দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এর আগে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছিল, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মক্কার নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই একটি হুতি ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়। জোটের মুখপাত্র তুরকি আল-মালকি বলেন, মক্কার নিরাপত্তা তাদের জন্য ‘রেড লাইন’। ২০১৭ সালের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ঘটনার পর এটিকে মক্কাকে লক্ষ্য করে হুতিদের দ্বিতীয় হামলার চেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে মক্কা বা অন্য কোনো পবিত্র স্থানে হামলার লক্ষ্য থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে হুতিরা। গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটিগুলোই তাদের অভিযানের লক্ষ্য এবং সেগুলো পবিত্র স্থানগুলো থেকে দূরে।

এদিকে মক্কার কাছে ড্রোন হামলার চেষ্টার অভিযোগের পর সৌদি আরবের প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। তিনি সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা রক্ষায় পাকিস্তান পাশে থাকবে বলে জানান। একই সঙ্গে পরিস্থিতির আরও অবনতি এড়াতে সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানান তিনি।

খাজা আসিফ আরও জানান, হুতিদের হামলা নিয়ে সৌদি আরবের একটি বার্তা পাকিস্তান ইরানের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। তাঁর ধারণা, ইরান রাষ্ট্র হিসেবে এমন কোনো পদক্ষেপ নেবে না, যাতে আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ইরানি রাষ্ট্রের সঙ্গে অরাষ্ট্রীয় গোষ্ঠীগুলোর সম্পর্কের বিষয়টি আলাদাভাবে দেখতে হবে। তাঁর মতে, কোনো অরাষ্ট্রীয় গোষ্ঠী সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়াও নিজস্ব সিদ্ধান্তে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারে।

হুতি ও সৌদি আরবের সংঘাতে ইরান সরাসরি কোনো পক্ষ নিলে তা তেহরানের জন্য বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত হবে না বলেও মন্তব্য করেন খাজা আসিফ। সংঘাত যেন নতুন কোনো এলাকায় ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য পাকিস্তান কূটনৈতিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাবে বলে জানান তিনি।

পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সম্প্রতি স্বাক্ষরিত হয়েছে। খাজা আসিফের বক্তব্য অনুযায়ী, তিন দেশের নিরাপত্তার প্রয়োজন বিবেচনা করেই এই ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে।

এস এম/ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬




FAQ

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি কবে স্বাক্ষরিত হয়?

পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক ৭ আগস্ট ২০২৬ মক্কায় ‘Makkah Joint Defence Agreement’ স্বাক্ষর করে।

এই চুক্তির মূল বিষয় কী?

চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির বিরুদ্ধে সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের বিরুদ্ধেই হামলা হিসেবে বিবেচনা করার কাঠামো রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

মক্কার কাছে হুতি ড্রোনের কী হয়েছিল?

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি অনুযায়ী, ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মক্কার দক্ষিণে একটি হুতি ড্রোন নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগে ধ্বংস করা হয়।

হুতিরা কি মক্কাকে লক্ষ্য করার কথা স্বীকার করেছে?

না। হুতিরা মক্কাকে লক্ষ্য করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটি।

পাকিস্তান কি হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান ঘোষণা করেছে?

না। খাজা আসিফ চুক্তির অধীনে পাকিস্তানের দায়িত্ব পালনের কথা বলেছেন, কিন্তু ১৬ সেপ্টেম্বরের বক্তব্যে কোনো নির্দিষ্ট সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেননি।

চুক্তিটি কি ইতিমধ্যেই কার্যকর কাঠামোয় এসেছে?

চুক্তি ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং ৩১ আগস্ট এর Strategic Political and Defence Committee বৈঠক হয়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, এর operationalization প্রাথমিক পর্যায়ে ছিল এবং পরবর্তীতে কাঠামো আরও প্রাতিষ্ঠানিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

Explore More Districts