যশোরে সাইনবোর্ডে পার্টসের ব্যবসা, আড়ালে অটো তৈরির অভিযোগ-নীরব প্রশাসন!

যশোর শহরের ঘোপ জেল রোড এলাকায় আবাসিক বাড়ির ভেতরে অনুমোদনহীনভাবে অটো রিকশা তৈরির কারখানা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘সোহাগ অটো’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে অটো রিকশা তৈরি ও বিক্রির কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, জেল রোডের বাসিন্দা মৃত কদম রসুলের বাড়ির ভেতরে সোহাগ নামে এক ব্যক্তি অটো রিকশা তৈরির কারখানা গড়ে তুলেছেন। সেখানে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক অটো রিকশা তৈরি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে এসব অটো রিকশা বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, তৈরি করা অটো রিকশাগুলো ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে দেড় লাখেরও বেশি দামে বিক্রি করা হয়। ট্রাকযোগে তৈরি করা অটো রিকশা যশোরের বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও জেলার বাইরের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয় বলেও স্থানীয়দের দাবি।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, কথিত এই কারখানার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে আবাসিক এলাকায় কারখানা পরিচালনার কারণে পরিবেশ ও জননিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ঘোপ জেল রোডে ‘সোহাগ অটো’ প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ডে ইজি বাইক, অটো সাইকেল, অটো রিকশা ও থ্রি-হুইলারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পাইকারি ও খুচরা বিক্রির কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আড়ালেই অটো রিকশা তৈরির কার্যক্রম চলছে।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।

অটো রিকশা বা থ্রি-হুইলার তৈরির মতো কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যবসার ধরন ও কার্যক্রম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় নিবন্ধন, পরিবেশগত অনুমোদন, কারখানা ও অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত অনুমতি এবং যানবাহনের কারিগরি অনুমোদনের প্রয়োজন হতে পারে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, ঘোপ জেল রোডের কথিত কারখানাটির এসব অনুমোদন ও লাইসেন্স রয়েছে কি না। থাকলে সেগুলোর বৈধতা এবং কারখানাটি কোন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে পরিচালিত হচ্ছে—তা প্রকাশের দাবি উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অনুমোদন ও নির্ধারিত নিয়ম না মেনে তৈরি অটো রিকশা সড়কে চলাচল করায় যশোর শহরে যানজট বাড়ছে। পাশাপাশি এসব যানবাহনের কারণে ছোট-বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে বলে তারা মনে করছেন।

অতিরিক্ত সংখ্যক ব্যাটারিচালিত যানবাহনের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক বিভাগকে অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।

এদিকে ঘোপ জেল রোডের আবাসিক এলাকায় কথিত অটো রিকশা তৈরির কারখানার বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। একই সঙ্গে কারখানাটির প্রয়োজনীয় অনুমোদন, লাইসেন্স ও পরিবেশগত ছাড়পত্র রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে সোহাগ অটোর স্বত্তাধিকারি সোহাগের কাছে জানতে চাওয়া হলে বলেন, তিনি কোন অটো রিকশা তৈরি করেন না। অটো রিকশার পাটর্স বিক্রি করেন এবং অটো রিকশা কিনে এনে ফিটিং করেন।

Explore More Districts