অনুমোদন নবায়ন ছাড়াই যশোর পপুলার হাসপাতাল! মানছে না স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা

যশোর শহরের ঘোপ নওয়াপাড়া রোডে অবস্থিত পপুলার মেডিকেল সার্ভিসেস অ্যান্ড হসপিটালের বিরুদ্ধে অনুমোদন নবায়ন, অগ্নিনিরাপত্তা, পরিবেশগত ছাড়পত্র, চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জনবল ও রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায়সহ বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে হাসপাতালটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির স্বাস্থ্য বিভাগের অনুমোদনের মেয়াদ প্রায় এক বছর আগে শেষ হয়ে গেলেও দীর্ঘ সময় ধরে বৈধ নবায়ন ছাড়াই হাসপাতালটি পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি হাসপাতাল পরিচালনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত ছাড়পত্র ও ফায়ার লাইসেন্স প্রতিষ্ঠানটির নেই বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া হাসপাতালটিতে চিকিৎসা বর্জ্য অপসারণে সুনির্দিষ্ট ও নিরাপদ ব্যবস্থাপনা নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। খোলা জায়গায় চিকিৎসা বর্জ্য ফেলার কারণে সাধারণ মানুষ ও পরিবেশ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

হাসপাতালে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। একই সঙ্গে চিকিৎসাসেবার মান ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।

এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে তদন্ত দল পাঠিয়ে হাসপাতালটির কারিগরি অবকাঠামো, জনবল, চিকিৎসকদের উপস্থিতি, লাইসেন্স ও অন্যান্য অনুমোদনের বিষয়গুলো যাচাইয়ের দাবি উঠেছে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনারও দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্প্রতি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের চিকিৎসাসেবার মান তদারকিতে সিভিল সার্জনদের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে শয্যাসংখ্যা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োজিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ৫০ শয্যার একটি হাসপাতালে প্রতি শিফটে কমপক্ষে পাঁচজন মেডিকেল অফিসার উপস্থিত থাকতে হবে। অর্থাৎ প্রতি ১০ শয্যার বিপরীতে অন্তত একজন মেডিকেল অফিসার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

এ ছাড়া জেলার সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে প্রতি মাসে চিকিৎসকদের ডিউটি রোস্টার সংগ্রহ, চিকিৎসকদের নাম, বিএমডিসি নিবন্ধন নম্বর ও মোবাইল নম্বরসহ হালনাগাদ তালিকা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে জমা নিশ্চিত করা এবং ডিউটি রোস্টার অনুযায়ী নিয়মিত যাচাই-বাছাই ও আকস্মিক পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক উপস্থিত না থাকলে কিংবা ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য দেওয়া হলে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অবহিত করার কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি মনিটরিং কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ প্রতিবেদন প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানোর নির্দেশ রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রোগীদের নিরাপদ, মানসম্মত ও নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতেই এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তবে অভিযোগকারীদের দাবি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে যশোরে যথাযথ তদারকি হচ্ছে না। তাদের অভিযোগ, পপুলার মেডিকেল সার্ভিসেস অ্যান্ড হসপিটালের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এমনকি যশোরের সিভিল সার্জন মাসুদ রানার বিরুদ্ধে বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক মালিকদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন কেউ কেউ। তবে এ অভিযোগের পক্ষে প্রতিবেদনে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ বা নথি উপস্থাপন করা হয়নি। অভিযোগটি সত্যতা যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।

অভিযোগের বিষয়ে যশোরের সিভিল সার্জন ও পপুলার মেডিকেল সার্ভিসেস অ্যান্ড হসপিটাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে হাসপাতালটির লাইসেন্স, পরিবেশগত ছাড়পত্র, ফায়ার লাইসেন্স, চিকিৎসক ও নার্সের জনবল, চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং রোগীদের কাছ থেকে আদায়কৃত ফি যাচাই করা হোক। অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

Explore More Districts