চিরতরে চলে গেলেন আজন্ম কষ্ট ও দারিদ্র্যতার সাথে যুদ্ধ করা শতবর্ষী এক সংগ্রামী নারী মায়া রানী দাস

২৫ August ২০২৬ Tuesday ১:৫১:৩৪ PM

Print this E-mail this


নিজস্ব প্রতিনিধি:

অন্তিম শয়নে শতবর্ষী মায়া রানী দাস!
বানারীপাড়ার মানুষের কাছে খুবই পরিচিত ও প্রিয় মুখ ছিলেন পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী বনিক বাড়ির বাসিন্দা শতবর্ষী সংগ্রামী নারী মায়া রানী দাস। জীবনের অধিকাংশ সময় তিনি কাটিয়েছেন চরম সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। কখনো পৌরসভার অলিগলিতে ভিক্ষা করেছেন, আবার কখনো শাকসবজি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেছেন। অভাব-অনটন তাঁকে মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও হাসিমুখে কথা বলা থেকে দূরে সরাতে পারেনি।

বানারীপাড়া বাসস্ট্যান্ড ও বন্দর বাজারে তাঁকে প্রায়ই দেখা যেত। সেখানেই তাঁর সঙ্গে দেখা হতো সকলের । বয়সের ভারে ন্যুব্জ হলেও পরিচিত মানুষ দেখলেই হাসিমুখে কথা বলতেন। মানুষকে তিনি খুবই ভালোবাসতেন। তার আচরব ও ভালোবাসায় অধিকাংশ মানুষ তাঁকে শ্রদ্ধা করে ‘কাকী’ বলে ডাকতেন।

অনেক সময় তাঁর সঙ্গে দেখা হলে কিছু টাকা না দিয়ে চলে যেতে পারত না কেউ। সামান্য কিছু টাকা হাতে পেলে তাঁর মুখে যে আনন্দের হাসি ফুটে উঠত, তা আজও স্মৃতির পাতায় অম্লান হয়ে আছে। তাঁর সেই সরলতা, মায়াভরা কথা ও হাসিমুখের স্মৃতি হয়তো বহুদিন বানারীপাড়ার মানুষের মনে বেঁচে থাকবে।

২৫ আগস্ট ২০২৬ খ্রি. মঙ্গলবার বার্ধক্যজনিত কারণে নিজ বাসভবনে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন শতবর্ষী এই সংগ্রামী নারী। তাঁর চলে যাওয়ায় বানারীপাড়ার পরিচিত একটি মানবিক মুখের চিরবিদায় হলো।

তাঁর সঙ্গে বাসস্ট্যান্ডে কিংবা বন্দর বাজারে আর দেখা হবে না কারও। শোনা যাবেনা না তাঁর সেই পরিচিত কণ্ঠ, দেখাও হবে না সেই মায়াভরা হাসি। জীবনের দীর্ঘ সংগ্রামের পথ পাড়ি দিয়ে আজ তিনি চলে গেলেন অন্তিম শয়নে।
মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করছেন দল-মত নির্বিশেষে অত্র এলাকার সর্বস্তরের মানুষ । তাঁর স্মৃতি বেঁচে থাকবে বানারীপাড়ার মানুষের হৃদয়ে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অনেকে..

সুমন দেবনাথ, বরিশাল
তারিখঃ ২৫-০৮-২০২৬ ইং
০১৭১৭-৫০৯৮১৪

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

Explore More Districts