বর্ষার সৌন্দর্য কদম। জোছনা যখন কদম ফুলের শরীরে চুঁয়ে-চুঁয়ে পড়ে, প্রকৃতি ও জোছনাপ্রেমীরা তখন কদমের মুগ্ধতা দেখে চোখের আরাম নেয়। এই অপার্থিব সৌন্দর্য দেখেই কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন, ‘এসো নীপ বনে নবধারাজলে।’ বর্ষা উপভোগ করার জন্য কবি তার সঙ্গীকে কদম বনে আসার আহ্বান জানাচ্ছেন। তিনি আরও লিখেছেন, “গুরু গুরু ডাকে দেয়া,/ ফুটিছে কদম–কেয়া/ ময়ূর পেখম তুলে সুখে তান ধরছে/ বর্ষার ঝরঝর সারাদিন ঝরছে ।” কৃষ্ণ প্রেমের অনুসঙ্গ কদম ডাল বাংলা গানেও বহু জায়গায় ব্যবহার হয়েছে। বাঁশির সুরে সুরে বিরহী প্রেমিক কদম ডালে বসে তার প্রেমিকাকে ডেকেছেন এই কদমের তলে।
শুধু বাংলা লোকসাহিত্য কিংবা আধুনিক গানেই কদমের ব্যবহার সীমাবদ্ধ নেই। বর্ষাকালে যখন চারদিকে খাদ্যের সংকট শুরু হয় তখন পাখিরা কদম ফুল এবং ফল উভয়ই খেয়ে তাদের খাদ্যের সংকট পূরণ করে। কদম ফুলের ভেতরের মিষ্টি রস বা মধু খাওয়ার জন্য শালিক, বুলবুলি ও ছোট প্রজাতির পাখি ভিড় করে। পরবর্তীতে ফুল থেকে যখন নরম ও মাংসল ফল তৈরি হয়, তখন টিয়া, ঘুঘুসহ বিভিন্ন পাখি এই ফল খুব শখে খায়। মূলত বর্ষায় পাখিরা কদম খেয়ে জীবন বাঁচায়।
মানুষের প্রায় সব রোগের চিকিৎসায় কদমের ফল, ছাল ও ফুলের ব্যবহার হয়ে আসছে প্রাচীনকাল থেকে। পুরুষের স্টামিনা বাড়াতে খুবই কার্যকরী কদম ফল। কদম ফুল পানিতে সেদ্ধ করে সেই পানি দিয়ে কুলি করলে মুখের দুর্গন্ধ ও মাড়ির ব্যাথা কমে যায়। কদমের ছাল বা ফলের উপাদান বমি ভাব ও বমি দূর করে। পাকা কদমের ফলের রস অতিরিক্ত তৃষ্ণা, ঘাম এবং শরীরের ভেতরের জ্বালাপোড়া কমাতে কাজে লাগে। ফলের শাঁস পরিপাকতন্ত্রের উন্নতি ও প্রাকৃতিক ডিটক্সিফায়ার হিসেবে কাজ করে। কৃমি নিয়ন্ত্রণ, টিউমার, একশিরা রোগ, পায়ের তালু জ্বলা, ব্রণসৃষ্ট ক্ষত ও গ্রন্থিস্ফীতি ইত্যাদি রোগের চিকিৎসায় প্রাচীন চিকিৎসাশাস্ত্রে কদমের ব্যবহার প্রচলিত ছিল।
লিখেছেন-মোঃ আব্দুর রহিম
সাব ইন্সপেক্টর, ডিএমপি মিডিয়া সেন্টার।
শেয়ার করুন
