কমেছে সরবরাহ, খাতুনগঞ্জে চিনির দাম বাড়ছে – দৈনিক আজাদী





গ্যাস সংকটের অজুহাতে এবার খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে বাড়ছে চিনির দাম। গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারিতে প্রতি মণে চিনির দাম বেড়েছে ২০০ টাকা পর্যন্ত। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারে গ্যাস সংকটের অজুহাতে চিনির সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছেন মিল মালিকরা। এসব মিল মালিক আগের মতো সিন্ডিকেট করে চিনির দাম বৃদ্ধি করছেন বলে অভিযোগ। অথচ এই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির বুকিং রেটও বাড়েনি।

এর আগে, গত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে চিনির বাজারে আমদানি উন্মুক্ত করার কারণে কয়েক মাস কোনঠাসা ছিল এই সিন্ডিকেট। পরবর্তীতে মিল মালিকদের সিন্ডিকেট ইচ্ছে করে কম দামে চিনি বিক্রি করে ছোট ও মাঝারি চিনি আমদানিকারকদের লোকসান দিতে বাধ্য করে। পরে তারা আবারও চিনির বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। ফলে চিনির বাজারে আগের মতো সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। তবে ভোক্তারা বলছেন, চিনির বাজারে প্রশাসনের কোনো অভিযান নাই। ফলে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছে মতো দাম বৃদ্ধি করছেন। গতকাল খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত দুই সপ্তাহ সপ্তাহ আগে খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে মণপ্রতি (৩৭.৩২ কেজি) চিনি বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার ৬০০ টাকায়। বর্তমানে সেই চিনি বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৮০০ টাকায়।

খাতুনগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, এই বাজারে পণ্য বেচাকেনা ও লেনদেনে যুগ যুগ ধরে কিছু প্রথা চালু আছে। নিজেদের সুবিধার অনেক প্রথা আছে যেগুলো আইনগতভাবে স্বীকৃত নয়। এরমধ্যে অন্যতম হচ্ছে ‘ডেলিভারি অর্ডার (ডিও) স্লিপ’। চিনি কিংবা অন্য কোনো পণ্য কেনাবেচায় ডিও বেচাকেনার মাধ্যমে বিভিন্ন আগাম লেনদেন হচ্ছে। দেখা যায়, পণ্য হাতে না পেলেও ওই স্লিপটিই বেচাকেনা হচ্ছে। কোনো কোম্পানি বাজারে আসার আগে নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্যের ডিও বিক্রি করে। যে দরে ডিও বিক্রি হয়, তার বাজার দর যদি বেড়ে যায়, তখন পণ্য ডেলিভারি দিতে তারা গড়িমসি করে। আবার দেখা যায়, কোম্পানির পণ্যের তুলনায় ডিও বিক্রিও হয় বেশি। এর ফলেও কোম্পানি বাজারে পণ্য ডেলিভারি দিতে পারে না। ফলে এসব পণ্যের দামও নিয়ন্ত্রণে থাকে না। চাক্তাই খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন আজাদীকে বলেন, ভোগ্যপণ্যের বাজার কখনো স্থির থাকে না। অনেক সময় বুকিং বেড়ে যায়। আবার পণ্যের সরবরাহও কমে যায়। আসলে কোনো পণ্যের যখন দাম বেড়ে যায়, তখন সিন্ডিকেটের কারসাজির অভিযোগ উঠে। অথচ দাম কমে গেলে এই প্রশ্নটি তখন আর আসে না। ভোগ্যপণ্যের বাজার উঠানামা করে চাহিদা ও যোগানের ওপর। এখানে সিন্ডিকেট করে দাম বৃদ্ধির কোনো সুযোগ নাই।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এসএম নাজের হোসেন বলেন, চিনির বাজার নিয়ে আসলে নতুন করে কিছু বলার নাই। আমাদের দেশে হাতেগোনা কয়েকটি শিল্পগ্রুপ চিনির পরিশোধন ও বিপণনের সাথে জড়িত। সরকার চাইলে এসব কোম্পানিকে নজরদারির মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে সেসবের কিছুই হচ্ছে না। যার ফলে ব্যবসায়ীরা চিনির বাজার ইচ্ছেমতো উঠানামা করাচ্ছেন।




Explore More Districts