
নয়া দিল্লি, ১৮ আগস্ট – প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার পদক্ষেপে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার বীণা সিক্রি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পোস্টকে অত্যন্ত রূঢ় এবং অহংকারী বলে অভিহিত করেছেন তিনি।
ভারতের একটি প্রধান বেসরকারি সংবাদ সংস্থার সঙ্গে আলাপকালে সিক্রি বলেন, এই ধরনের মন্তব্য একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।
তারেক রহমানের দিল্লি সফরের তারিখ চূড়ান্ত করতে উভয় দেশের সরকার এখনো আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশ সরকার প্রধানমন্ত্রীর সফরকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ অনুরোধের সঙ্গে যুক্ত করার যে চেষ্টা করছে তা বিস্ময়কর। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যে প্রেস নোট বা ফেসবুক পোস্ট দিয়েছে তা অনভিপ্রেত এবং এর মাধ্যমে তারা কোনো ধরনের রাজনৈতিক খেলা খেলছে কি না তা স্পষ্ট নয়।
ভারতের সাবেক এই কূটনীতিক জোর দিয়ে বলেন, এ ধরনের মন্তব্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের আন্তরিকতার অভাবেরই প্রতিফলন। তারেক রহমানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে দুটি আমন্ত্রণ জানানো হলেও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এখনো কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।
তিনি জানান, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেওয়ার পরপরই মোদি তাকে পরিবারসহ দ্বিপাক্ষিক সফরের আমন্ত্রণ জানান। এরপর বিমসটেক প্রধান হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্যও দ্বিতীয় আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু কোনোটিরই জবাব পাওয়া যায়নি।
প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে সিক্রি বলেন, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী আইনি প্রক্রিয়া এবং এর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক সফরকে যুক্ত করা একেবারেই অপ্রয়োজনীয় ও কূটনীতিবহির্ভূত। বিভিন্ন দেশে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়ে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়। এমতাবস্থায় শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের শর্তে সফর আটকে রাখা যৌক্তিক নয়।
গত রোববার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শহীদুল করিম জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর নিয়ে উভয় দেশের কর্মকর্তারা যোগাযোগ রাখছেন। তবে ৫ আগস্ট নয়া দিল্লিতে শেখ হাসিনার একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া কূটনৈতিক উত্তেজনার কারণে এখনো কোনো চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারিত হয়নি।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিত শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা। তবে ভারত সরকার জানিয়েছে, শেখ হাসিনার ওই কর্মসূচির সঙ্গে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই এবং সেটি একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যমের আয়োজন ছিল।
এনএন/ ১৮ আগস্ট ২০২৬



