বাউফলে নদীভাঙনের মুখে তিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

১৭ August ২০২৬ Monday ২:৪১:৩৩ PM

Print this E-mail this


অনলাইন নিউজ ডেস্ক:

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কাছিপাড়া ইউনিয়নে কারখানা নদীর ভাঙনে যে কোনো সময় বিলীন হয়ে যেতে পারে তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। দ্রুত ভাঙন রোধে ব্যবস্থা না নিলে বিদ্যালয় তিনটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

কারখানা নদীর ভাঙনে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে চররঘুনাথদ্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। নদীর তীর থেকে বিদ্যালয়টির দূরত্ব এখন মাত্র ২০ থেকে ২৫ ফুট। একই নদীর ভাঙনের মুখে রয়েছে হিসাজাত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পশ্চিম কাছিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ দুটি বিদ্যালয় নদীর তীর থেকে যথাক্রমে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ ফুট দূরে রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক বছরে নদী যেভাবে পাড় গিলে খাচ্ছে, তাতে বিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিম কাছিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে প্রায় ৫০ ফুট জায়গা এক মাসের মধ্যেই নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

কাছিপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নোমান বলেন, ‘নদীভাঙনের কারণে আমাদের বিদ্যালয় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। আমরা চাই, সরকার দ্রুত বিদ্যালয়টি রক্ষার ব্যবস্থা করুক।’

কাছিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুনীল চন্দ্র দাস বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয় অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। গত বছর বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন কিছুটা বন্ধ রাখা হয়েছিল। কিন্তু প্রায় এক মাস আগে আবার ৫০ ফুট জায়গা ভেঙে গেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বিদ্যালয়ের পাশাপাশি একটি মসজিদ ও বাজার হুমকির মুখে পড়বে।’

তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়টি সরিয়ে নেওয়ার মতো আশপাশে কোনো জায়গা নেই। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন তিনি।

বাউফল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আখতার হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে আলোচনা করেছি। ইউএনও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও কথা বলেছেন। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, তিনটি বিদ্যালয়ে শত শত শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বিদ্যালয়গুলো নদীগর্ভে চলে যেতে পারে। এতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. শাহানেওয়াজ তালুকদার বলেন, নদীভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভাঙনকবলিত এলাকায় বার্জের মাধ্যমে বালুর বস্তা ফেলা হবে। এতে বস্তাগুলো পরিকল্পিতভাবে একটির ওপর আরেকটি বসানো সম্ভব হবে এবং প্রতিরোধ ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে বেশি স্থায়ী হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে একটি বার্জ পায়রা নদীতে রয়েছে। সেটি এনে ভাঙনকবলিত এলাকায় বালুর বস্তা ফেলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। চররঘুনাথদ্দী এলাকায় নদীভাঙন ঠেকাতে একটি কাজের অনুমোদন হয়েছে। তবে এ ধরনের কাজে বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

স্থানীয়দের দাবি, শুধু কাগজে-কলমে উদ্যোগ নয়, দ্রুত মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করতে হবে। তা না হলে নদীগর্ভে তিনটি বিদ্যালয়ের ভবন বিলীন হওয়ার পাশাপাশি শত শত শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রমও অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

Explore More Districts