কাপ্তাই হ্রদ থেকে ৫ দিনে বাজারে গেল ৬৪০ টন মাছ – দৈনিক আজাদী

মাছ আহরণে টানা সাড়ে ৩ মাস নিষেধাজ্ঞার পর কাপ্তাই হ্রদে গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) থেকে আহরণ মৌসুম শুরু হয়েছে। ১১ থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত বিগত পাঁচদিনে ৬৪০ মেট্রিক টন মাছ বাজারজাত করেছেন ব্যবসায়ীরা। বাজারজাতকৃত মাছ থেকে ১ কোটি ৪২ লাখ ৪৩ হাজার ৭৮৭ টাকা শুল্ক আদায় করেছে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি)। গতকাল রোববার দুপুরে রাঙামাটি শহরের কাপ্তাই হ্রদ মৎস্য উন্নয়ন ও বিপণনকেন্দ্রের অবতরণকেন্দ্র ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, জেলেরা ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে মাছ নিয়ে ঘাটে এসেছেন। এরমধ্যে বেশিরভাগ কেচকি, চাপিলা মাছ ধরা পড়েছে। ব্যবসায়ীরা জেলেদের কাছ থেকে মাছ বুঝে নিয়ে বিএফডিসিকে শুল্ক দিয়ে মাছগুলো বরফ দিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে নিয়ে যাচ্ছেন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের উদ্দেশ্যে।

বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাপ্তাই হ্রদে মাছ চাষ, বিপণন ও শুল্কহার আদায় করে থাকে কাপ্তাই হ্রদ মৎস্য উন্নয়ন ও বিপণনকেন্দ্র। রাঙামাটি শহরের প্রধান বিপণনকেন্দ্র ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির মারিশ্যা, কাপ্তাই ও খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে উপকেন্দ্র রয়েছে। মূলত কাপ্তাই হ্রদে প্রজনন মৌসুমে প্রতি বছর তিনমাস মাছ শিকার, বিপণন, পরিবহন ও সংরক্ষণের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ২৫ এপ্রিল থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত তিন মাসের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করে জেলা প্রশাসন। তবে মাছের আকার বৃদ্ধি না পাওয়ার কারণে নিষেধাজ্ঞা আরও ১০ দিন বাড়ানো হয়। নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ১১ আগস্ট ভোর থেকে মাছ ধরা শুরু হয়।

কাপ্তাই হ্রদ মৎস্য উন্নয়ন ও বিপণনকেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, সব অবতরণকেন্দ্রে গত পাঁচদিনে ৬৪০ মেট্রিক টন মাছ অবতরণ (ল্যান্ডিং) করা হয়। এসব মাছ থেকে গত পাঁচদিনে ১ কোটি ৪২ লাখ ৪৩ হাজার ৭৮৭ টাকা শুল্ক আদায় হয়েছে। যার মধ্যে প্রথমদিন ১৯৩ মেট্রিক টন মাছ অবতরণ করা হয়। এ মাছ থেকে প্রথম দিনে রাজস্ব আয় হয়েছে ৪২ লাখ ৩৮ হাজার ৬১১ টাকা।

রাঙামাটি জেলা মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. কবির হোসেন বলেন, তিন মাসেরও বেশি সময় পর কাপ্তাই হ্রদে মৎস্য আহরণ শুরু হয়েছে। এতে আমরা আনন্দিত। প্রথম থেকেই চাপিলা ও কেঁচকি মাছ বেশি আসছে। তবে মাছের আকার বেশির ভাগ ছোট। আরও কয়েকদিন গেলে বুঝা যাবে মাছের আকার কেমন হয়।

কাপ্তাই হ্রদ মৎস্য উন্নয়ন ও বিপণনকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক কমান্ডার ফয়েজ আল করিম বলেন, মাছের পরিমাণ নিয়ে সমস্যা নেই। গতবছর প্রথম দিনে ১২৫ মেট্রিক টন মাছ ল্যান্ডিং হয়েছে। আর এ বছর প্রথমদিনে ল্যান্ডিং হয়েছে ১৯৩ মেট্রিক টন। যা গতবছরের তুলনায় অনেক। মাছের আকার ছোট হওয়ার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা চেয়েছি আরও ১৫ দিন কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরা বন্ধ রেখে তারপর খুলে দিতে। যাতে মাছগুলো আরও একটু বড় হওয়ার সুযোগ পায়। কিন্তু এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত জেলে, ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও পরিবহনখাত থেকে শুরু করে সকলের চাহিদা ছিল পানি বেড়েছে হ্রদ খুলে দেওয়ার। কারণ জেলেরাও তিনমাস কর্মহীন ছিলেন। সব কিছু মিলিয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে হ্রদ খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিএফডিসির বিপণনকেন্দ্র পরিদর্শনে দীপেন দেওয়ান : এদিকে, জাতীয় মৎস্য পক্ষ২০২৬ উপলক্ষে রাঙামাটিতে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট, রাঙামাটি নদী উপকেন্দ্রের আয়োজনে গতকাল সকালে বর্ণাঢ্য সড়ক র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। র‌্যালিতে প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান। পরে দুপুরে বিএফডিসির বিপণনকেন্দ্র পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় দীপেন দেওয়ান মৎস্য ব্যবসায়ী ও বিএফডিসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং অবতরণ ঘাট পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার, কাপ্তাই হ্রদ মৎস্য উন্নয়ন ও বিপণনকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক কমান্ডার ফয়েজ আল করিম উপস্থিত ছিলেন।

Explore More Districts