নাজিরপুরে পরকীয়ার অভিযোগে চাঁদার দাবিতে মারধরে ব্যবসায়ীর মৃত্যু

১৫ August ২০২৬ Saturday ১১:১৭:১৮ PM

Print this E-mail this


নাজিরপুর ((পিরোজপুর) প্রতিনিধি:

পিরোজপুরের নাজিরপুরে নারী কেলেঙ্কারীর অভিযোগ দিয়ে মো. আনিছুর রহমান (৪৫) নামের এক ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি করে মারপিট দিয়ে আটকে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে।  শনিবার (১৫ আগস্ট) ওই ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার শাঁখারিকাঠী ইউনিয়নের তৈয়বের হাট গ্রামে। নিহত ব্যবসায়ী উপজেলার দীর্ঘা ইউনিয়নের ছৈলাবুনিয়া গ্রামের মৃত আলাউদ্দিন শিকদারের ছেলে ও ওই বাজারের লেপ-তোষখের ব্যবসায়ী। 

এ হামলা,  মারধর ও চাঁদা দাবির সঙ্গে জড়িতরা হলো- উপজেলার শাঁখারীকাঠী  ইউনিয়নের বুড়িখালী গ্রামের হেলাল শেখের ছেলে আরিফুল ইসলাম শেখ (২৫), একই গ্রামের সিদ্দিক শেখের ছেলে শফিকুল ইসলাম শেখ (২৪), সিরাজুল শেখের ছেলে হাফিজুল শেখ এবং একই ইউনিয়নের উত্তর হোগলাবুনিয়া  গ্রামের অলি মোল্লার ছেলে আজিজুল ইসলাম মোল্লা (২৬)।

অভিযোগ উঠেছে ব্যবসায়ীক দ্বন্দ্বের জেরে বহিরাগত ক্যাডার দিয়ে একই বাজারের হোটেল ব্যবসায়ী আসমা বেগম (৪৫) নামের এক বিধবা নারীর সঙ্গে পরকিয়ার অভিযোগ করে ওই চাঁদা আদায় ও মারধরের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

ভুক্তভোগী নারী বলেন, নিহত আনিছুর রহমান তার দোকানের পাশেই লেপ-তোষখের ব্যবসা করতেন। তাদের একে অপরের সাথে ভাই-বোনের সম্পর্ক।  গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাতে ওই বাজারের কয়েক ব্যবসায়ী মিলে খিচুরী খান। পরে ওই রাতের ২টার দিকে  তিনি (বিধাব নারী) প্রকৃতির ডাকে সারা দিতে পাশের বাথরুমে গেলে ওই নারীকে তারা ডেকে নিয়ে আনিছুর রহমানের লেপ-তোষখের দোকানে আটকে রাখে।

এ সময়  ওই নারীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগ করে ওই ব্যবসায়ীকে মারধর করে ও  তার পকেটে থাকা নগদ ১০ হাজার টাকা  এবং  মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। পরে  আরও ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। ওই চাঁদার  টাকা না পেয়ে রাতভর তাদের উভয়কে একই কক্ষে আটকে রেখে সকালে তাদের বিয়ে পড়াবার জন্য স্থানীয় কাজী মো. ফরাদুল ইসলামকে ডাকা হয়। ওই সময় তিনি বের হলে পড়ে গিয়ে তার মৃত্যু হয়। 

কাজী ফরাদুল ইসলাম বলেন, তাকে ওই নারী ও পুরুষের বিয়ের জন্য ডাকা হয়। তবে ওই ব্যবসায়ীর স্ত্রী থাকায় এবং তখন তার কাছে ভোটার আইডি কার্ড না পাওয়ায় বিয়ে না পড়িয়ে তিনি চলে যান। 

নাজিরপুর থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,  নিহতের পরিবার থেকে এ ব্যাপারে কোন অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

Explore More Districts