আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার–সংক্রান্ত চুক্তির (আইসিসিপিআর) ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, একজন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে তাঁর আইনি প্রস্তুতির জন্য ‘যথেষ্ট সময়’ দিতে হবে। এই সময়সীমা মামলার ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।
অভিযোগের গুরুত্ব, পরিসর এবং আইনি জটিলতার ওপর তা নির্ভর করে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনের চর্চায় সাধারণত দেখা যায়, প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে সব তথ্য-প্রমাণ সরবরাহ করার পরও বিচার শুরু হতে অনেক মাস সময় নেওয়া হয়, যাতে আসামিপক্ষ যথাযথভাবে প্রস্তুতি নিতে পারে।
বাংলাদেশের ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনের ৯ (৩) ধারায় বলা আছে, প্রসিকিউশনের প্রমাণ উপস্থাপনের পর বিচার শুরু করতে ট্রাইব্যুনালকে মাত্র তিন সপ্তাহ অপেক্ষা করলেই চলে।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এই বিধানটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল। পরে ২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই সময়সীমা বাড়িয়ে তিন সপ্তাহ থেকে ছয় সপ্তাহ করা হয়।
তবে ২০২৫ সালে আবার সংশোধন এনে সময়সীমা পুনরায় কমিয়ে তিন সপ্তাহে নামিয়ে আনা হয়।
বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশে বর্তমান ট্রাইব্যুনালগুলো অনেক ক্ষেত্রে আইনে নির্ধারিত সর্বনিম্ন সময়ের চেয়ে কিছুটা বেশি সময় নিয়ে বিচার শুরু করছেন, কিন্তু আসামিপক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়ার পরও মোটামুটি আট সপ্তাহের মধ্যেই বিচার শুরু হয়ে যাচ্ছে। যেমন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলায় (যেখানে সারা দেশে সংঘটিত গুরুতর অপরাধ ও মৃত্যুর অভিযোগ ছিল) ২০২৫ সালের ১ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আদালতে জমা দেওয়া হয়।
আদালত-নিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী জানান, তিনি ২৫ জুন প্রমাণপত্র হাতে পান। এর মাত্র পাঁচ সপ্তাহ পর, ২০২৫ সালের ৩ আগস্ট বিচার শুরু হয়ে যায়।
আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের মামলায় ২০২৫ সালের ৩০ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেওয়া হয় এবং প্রায় দুই মাসের কিছু কম সময়ের মধ্যে, ২৮ আগস্ট ২০২৫-এ বিচার শুরু হয়।
মজার বিষয় হলো, রায়ে বিশেষভাবে বলা হয়েছে—‘অভিযুক্তদের আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ, প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় অর্থপূর্ণভাবে অংশ নেওয়ার জন্য যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, ফলে আইনি সহায়তা দেওয়ার প্রক্রিয়ার অখণ্ডতা বজায় ছিল।’
অভিযোগগুলোর গুরুত্ব (যেখানে একাধিক মৃত্যুর দায়ের কথা রয়েছে) এবং বেশির ভাগ আসামিপক্ষের আইনজীবীর আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনে অভিজ্ঞতা না থাকা, উপরন্তু অনেককে একসঙ্গে একাধিক আসামির পক্ষে লড়তে হওয়ায় এই সময়সীমাকে তাঁরা খুবই অল্প বলে মনে করেছেন।
আবু সাঈদ মামলায় এক অভিযুক্তের পক্ষে নিযুক্ত আইনজীবী আইজুল রহমান দুলা বলেন, ‘মামলার কাগজপত্র এত বেশি ছিল যে আট সপ্তাহ সময় প্রস্তুতির জন্য মোটেও যথেষ্ট ছিল না।’
