
লখনউ, ১২ আগস্ট – ভারতের উত্তরপ্রদেশে কৃষকদের আর্থিক সংকট নিরসন এবং দুগ্ধদানে অক্ষম গবাদিপশু রক্ষার লক্ষ্যে এক অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকার। রাজ্যের বুলন্দশহর জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে কৃষকদের কাছ থেকে গোমূত্র সংগ্রহের একটি পাইলট প্রকল্প চালু করা হয়েছে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রামীণ নারীদের বাড়তি উপার্জনের পথ তৈরির পাশাপাশি কৃত্রিম রাসায়নিকের বিকল্প হিসেবে জৈব সার ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
প্রধান বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টি এই প্রকল্পকে একটি বড় ধরনের কেলেঙ্কারি হিসেবে অভিহিত করেছে। তাদের দাবি, নির্বাচনের তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশ্যেই বিজেপি সরকার এমন এক প্রকল্পের পরিকল্পনা সাজিয়েছে। বুলন্দশহর জেলার সিয়ানা তহসিলের নারসাইনা গ্রামে ডক্টর প্রবীণের নেতৃত্বে একটি ফারমার প্রডিউসার অর্গানাইজেশনের মাধ্যমে এই প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে ওই এলাকার ১৫টি গ্রামের প্রায় ৫০০ লিটার গোমূত্র প্রতিদিন সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এগুলো সঠিকভাবে সংরক্ষণের জন্য গ্রামগুলোতে ২০০০ লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন বিশেষ ট্যাংক স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে সংগ্রহ প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও ভবিষ্যতে কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি লিটার ২০ রুপি দরে গোমূত্র কেনার পরিকল্পনা রয়েছে প্রশাসনের।
গ্রামীণ নারীদের এই প্রকল্পের কেন্দ্রে রাখা হয়েছে এবং প্রায় ৩০০ জন নারীকে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করে লিটার প্রতি ২ রুপি হারে কমিশন প্রদান করা হচ্ছে। এই পাইলট প্রকল্প সফল হলে পুরো উত্তরপ্রদেশে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাস্তবায়নের পথ উন্মুক্ত হবে।
বিরোধীদের পক্ষে সমাজবাদী পার্টির মুখপাত্র মোহাম্মদ আজম খান অভিযোগ করেন যে, বিজেপি সরকার নির্বাচনের তহবিল গড়তে এই ছক কষেছে। এর জবাবে বিজেপির মুখপাত্র হিরো বাজপাই বলেন, উন্নয়নমূলক কাজে খুঁত ধরা সমাজবাদী পার্টির মজ্জাগত অভ্যাস। তিনি দাবি করেন, এই প্রকল্পের সুফল যখন সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে, তখন বিরোধীরা তা মেনে নিতে পারছেন না।
এস এম/ ১২ আগস্ট ২০২৬



