ন্যাটোর আদলে পাকিস্তান, সৌদি ও তুরস্কের ‘মক্কা চুক্তি’, মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যের ডাক – DesheBideshe



ইসলামাবাদ, ১০ আগস্ট – পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর আদলে একটি শক্তিশালী যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে একটি কৌশলগত সামরিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে পাকিস্তান। অভ্যন্তরীণ মতভেদ ভুলে বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম রাষ্ট্রগুলোকেও এই সম্মিলিত প্ল্যাটফর্মে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি নামের এই উদ্যোগটি কেবল নির্দিষ্ট কিছু দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে তিনি স্পষ্ট করেছেন।

পাকিস্তানের প্রভাবশালী গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খাজা আসিফ বলেন, এই প্রতিরক্ষা চুক্তির দরজা অন্য সব বন্ধু রাষ্ট্রের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। তিনি মনে করেন যে ন্যাটোর মতো করে মুসলিম দেশগুলোর উচিত নিজেদের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বিরোধ এবং বাণিজ্যিক মতভেদ দূরে সরিয়ে রেখে একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ঐক্যবদ্ধ হওয়া। গত শুক্রবার সৌদি আরবের পবিত্র মক্কায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এই ঐতিহাসিক চুক্তিতে সই করেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগের ফলে এই অঞ্চলে এক নতুন শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয় তৈরি হতে যাচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখেই এই তিন প্রভাবশালী দেশ তাদের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এই চুক্তিকে ন্যাটোর আলোচিত অনুচ্ছেদ ৫ এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, স্বাক্ষরকারী তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর বহিঃশত্রুর হামলা হলে তা তিন দেশের ওপর সম্মিলিত হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে এবং মিত্র দেশগুলো একে অপরকে সহায়তায় এগিয়ে আসবে।

তুরস্ক জানিয়েছে যে সদস্য দেশগুলো আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করবে যে তারা কীভাবে একে অপরকে প্রতিরক্ষা সহায়তা দেবে। যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো সদস্য রাষ্ট্র আক্রান্ত হচ্ছে না, ততক্ষণ পর্যন্ত অন্য কোনো দেশকে প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে না। এই জোটে পাকিস্তানের যুদ্ধকৌশল ও পারমাণবিক সক্ষমতা, সৌদি আরবের অর্থনৈতিক শক্তি এবং তুরস্কের অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা শিল্প একীভূত হবে যা মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন যে ভবিষ্যতে মিশরসহ অন্যান্য দেশকেও এই জোটে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জানিয়েছেন যে এই চুক্তি কোনো বিশেষ দেশের বিরুদ্ধে নয় বরং এটি একটি আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা। এটি দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। চুক্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে এটি বিদ্যমান অন্য কোনো দ্বিপাক্ষিক বা বহুপক্ষীয় আন্তর্জাতিক চুক্তির পথে বাধা হবে না।

এনএন/ ১০ আগস্ট ২০২৬



Explore More Districts