
ইসলামাবাদ, ২ আগস্ট – দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে চরমপন্থী সহিংসতা। পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সোয়াত জেলায় শত শত মানুষের প্রতিবাদ সমাবেশের মাঝেই এক নারকীয় আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববারের এই শক্তিশালী বিস্ফোরণে চার পুলিশ সদস্যসহ অন্তত সাতজন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ২০ জনেরও বেশি মানুষ।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এএফপি ও স্থানীয় পত্রিকা ডন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, খাইবার পাখতুনখোয়ার সোয়াত উপত্যকায় সাম্প্রতিক সময়ের ক্রমবর্ধমান সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে কাবাল চত্বরে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও পুলিশের উপস্থিতিতে শত শত মানুষের বিক্ষোভ চলছিল। ঠিক সেই সময় কাবাল থানার প্রবেশদ্বারে এক সন্দেহভাজন যুবককে থামানোর চেষ্টা করেন দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা।
পুলিশ কর্মকর্তা (ডিপিও) উমর খান জানান, আত্মঘাতী হামলাকারীকে সন্দেহ হওয়ায় পুলিশ সদস্যরা তাকে থামিয়ে তল্লাশি শুরু করতেই সে নিজের শরীরে বাঁধা বিষ্ফোরক ভেস্টের বিস্ফোরণ ঘটায়। মুহূর্তের মধ্যে বিস্ফোরণের তীব্রতায় ঘটনাস্থলে চার পুলিশ কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষ লুটিয়ে পড়েন।
সোয়াতের উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) ফিদা হোসেন নিশ্চিত করেছেন যে, হামলায় এ পর্যন্ত ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত পুরো এলাকা কর্ডন করে আলামত সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী আনুষ্ঠানিকভাবে এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
সোয়াতের এই ভয়াবহ হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই প্রাদেশিক রাজধানী পেশোয়ার-ইসলামাবাদ মোটরওয়ে টোল প্লাজার কাছে একটি আইইডি (IED) বিস্ফোরণে দুই পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হন। এছাড়া মাত্র কয়েকদিন আগে (৩০ জুলাই) প্রদেশের হাঙ্গু জেলায় একটি পুলিশ চেকপোস্টে সন্ত্রাসীদের হামলায় ৯ জন পুলিশ সদস্য প্রাণ হারিয়েছিলেন।
পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (PICSS)-এর হালনাগাদ নিরাপত্তা প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে কেবল জুলাই মাসেই সন্ত্রাসী হামলায় ১৫৪ জন মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে—যা জুন মাসের (৭৫ জন) তুলনায় প্রায় ১০৫ শতাংশ বেশি!
সোয়াত উপত্যকা একসময় তালেবান ও জঙ্গিদের শক্ত ঘাঁটি থাকলেও সামরিক অভিযানের পর সেখানে শান্তি ফিরে এসেছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আবারও সেখানে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়া কেবল পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাই উন্মোচিত করছে না, বরং সমগ্র অঞ্চলের ভৌগোলিক স্থিতিশীলতাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। সন্ত্রাসবিরোধী আন্দোলনের মধ্যেই আত্মঘাতী হামলা স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে, জঙ্গিরা এখন পুলিশ ও সাধারণ নাগরিকদের সরাসরি মুখোমুখি হতে ভয় পাচ্ছে না।
এনএন/ ২ আগস্ট ২০২৬



