| ২ August ২০২৬ Sunday ১২:৫৮:২১ PM | |
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:

সংস্কারের পর স্বস্তির বদলে ভোগান্তিই যেন ফিরে এসেছে পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কে। ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা সড়কের পিচ উঠে গিয়ে মাত্র ১০ দিনের মধ্যেই তৈরি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। এখন সেই সড়কেই বৃষ্টির মধ্যে চলছে ফের সংস্কারকাজ। স্থানীয়দের প্রশ্ন, বারবার সংস্কারের পরও কেন টেকসই হচ্ছে না গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়ক। তাঁদের অভিযোগ, দায়সারাভাবে কাজ করে সরকারি অর্থ অপচয় করা হচ্ছে। তাঁরা দ্রুত তদন্ত করে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
আলিফ পরিবহনের চালক মো. বেল্লাল হোসেন অভিযোগ করেন, পটুয়াখালী-কুয়াকাটা ৭১ কিলোমিটার মহাসড়কের পটুয়াখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে মহিষকাটা পর্যন্ত প্রায় ১৯ কিলোমিটার অংশের সংস্কারের কাজ গত জুন মাসে শেষ হয়। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে গিয়ে অসংখ্য খানাখন্দ তৈরি হয়। তিনি বলেন, পরে সড়ক ও জনপথ বিভাগ ওই অংশের সংস্কার করলেও মাত্র ১০ দিনের মধ্যে আবারও সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্ত তৈরি হয়েছে। এখন বৃষ্টির মধ্যেই তড়িঘড়ি করে পুনরায় সংস্কার করা হচ্ছে। তার দাবি, বিষয়টি তদন্ত করে নিম্নমানের কাজের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
জানা গেছে, বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের বরিশাল, পটুয়াখালী ও বরগুনা অঞ্চলের আওতাধীন। ৭১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মহাসড়কটি ২০০০ সালে নির্মাণ করা হয়। তবে নির্মাণের কয়েক বছর পর থেকেই বিভিন্ন স্থানে ভাঙন ও খানাখন্দ তৈরি হতে থাকে। ২০১৮ সালেও সড়কটির কিছু অংশ সংস্কার করা হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
পটুয়াখালী সেতুর টোল আদায় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এ মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৯১২টি বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। এর মধ্যে রয়েছে দূরপাল্লার বাস, লোকাল বাস, ট্রাক, মিনি ট্রাক, মাইক্রোবাস ও ব্যক্তিগত গাড়ি। পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক মাহেন্দ্র, ট্রলি, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাও চলাচল করে। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ ও দীর্ঘদিনের রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
চলতি বছরের জুনের শুরুতে পটুয়াখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে মহিষকাটা স্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ১৯ কিলোমিটার অংশ সংস্কারের উদ্যোগ নেয় পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগ। এ কাজে ব্যয় ধরা হয় ১৩ কোটি টাকা। গত ৩০ জুন সংস্কারকাজ শেষ হয়। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে গিয়ে খানাখন্দ তৈরি হয়।
এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর সড়ক ও জনপথ বিভাগ আবারও সংস্কারের কাজ শুরু করে। কিন্তু সেই সংস্কারের ১০ দিনের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন অংশে ফের গর্ত দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
গতকাল শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, শাখারিয়া থেকে মহিষকাটা পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার অংশের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও পিচ উঠে গিয়ে ইটের খোয়া বের হয়ে এসেছে। এ সময় বৃষ্টির মধ্যেই সড়কের ওই অংশে সংস্কারের কাজ করতে দেখা যায় সওজের লোকজনকে।
স্থানীয় মিথুন কর্মকার বলেন, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং দায়সারাভাবে কাজ করায় অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কের এমন অবস্থা হয়েছে। তিনি কাজের মান যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
যাত্রী নাজমুল আহসান ও রাশেমুল হাওলাদার বলেন, কয়েক দিন আগেও তাঁরা সড়ক সংস্কারের কাজ হতে দেখেছেন। কিন্তু এখন আবার একই সড়কে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, একটি সংস্কার কাজ ১০ দিনের মধ্যেই কেন নষ্ট হয়ে যাবে?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শ্রমিক জানান, তাঁরা ঊর্ধ্বতনদের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছেন। কাজের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাঁদের নেই।
পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বৃষ্টির মধ্যে সংস্কারকাজ করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ছোট অবস্থায় খানাখন্দ মেরামত না করলে পরে তা বড় আকার ধারণ করে। তাই বৃষ্টি উপেক্ষা করেও কাজ করতে হচ্ছে।
বৃষ্টির মধ্যে করা সংস্কারকাজ কতটা টেকসই হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কিছু করার নেই, এটি সরকারের চলমান প্রক্রিয়ার অংশ।’
সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক
| শেয়ার করতে ক্লিক করুন: | Tweet |


