| ২৯ July ২০২৬ Wednesday ৯:৩৭:২১ PM | |
দশমিনা ((পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:

৬ বছর ধরে পরিত্যক্ত থাকায় রীতিমতো ভুতুড়ে এক রূপ ধারণ করেছে সেতুটি। সংযোগ সড়ক না থাকায় ব্লকের ওপর ব্লক দিয়ে সিঁড়ির মতো তৈরি করা হয়েছে। এতে পরিস্থিতি হয়েছে আরও ঝুঁকিপূর্ণ। অথচ ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে কাজ শুরু হওয়া এই সেতুটি নির্মাণে ব্যয় ধরা আছে প্রায় তিন কোটি টাকা।
পটুয়াখালীর দশমিনা ও বাউফল উপজেলার বাঁশবাড়িয়া-বগী খালের ওপর নির্মাণাধীন এই সেতুটির নকশায় ভুল ধরা পড়ায় ২০২০ সাল থেকে কাজ বন্ধ রয়েছে। এতে দুই উপজেলার প্রায় ১১ গ্রামের মানুষ, বিশেষ করে শিক্ষার্থী, নারী, শিশু ও বয়স্করা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
দশমিনা উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। ২৪ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৭ মিটার প্রস্থের আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ২ কোটি ৮২ লাখ ১০ হাজার ৫০৬ টাকা। কাজটি পায় পটুয়াখালীর মেসার্স আবুল কালাম আজাদ এন্টারপ্রাইজ।
চুক্তি অনুযায়ী, ২০২০ সালের শেষ দিকে সেতু নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেতুর মূল অবকাঠামোর কাজ শেষ করে। তবে সংযোগ সড়ক নির্মাণ শুরু করতে গিয়ে নকশায় ভুল ধরা পড়ে। এরপরই নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, বগী বাজারের দক্ষিণ প্রান্তে বাঁশবাড়িয়া-বগী খালের ওপর সেতুটি অকেজো অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। সেতুর দুই পাশে কোনো সংযোগ সড়ক নেই। ফলে সত্যিকার অর্থে তেমন কোন কাজেই আসছে না সেতুটি। কৃষিপণ্য পরিবহন থেকে শুরু করে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি এলাকাবাসীর সময় ও খরচ বেড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলজিইডি ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে ৬ বছর ধরে দুই উপজেলার ১১ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগে আছেন। তাদের দাবি, এলজিইডির কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় বছরের পর বছর সেতুর কাজ ঝুলে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আবদুল হাই বলেন, ‘দুই উপজেলার মধ্যবর্তী সংযোগ খালের উপর গার্ডার ব্রিজ হবে তার ডিজাইন বা নকশা প্রস্তুত না করেই টেন্ডার দেয় কি করে। সেতুর কাজের ৯০ ভাগ শেষ হওয়ার পর বলে নকশা ভুল। এটা নিছক এলজিইডির গাফিলতি। সেতুর উচ্চতা অনেক, যে কারণে ভুল ডিজাইনে সংযোগ সড়ক নির্মাণ সম্ভব না। এতে দুই পাড়ে দুটি হাট-বাজার শেষ হয়ে গিয়েছে। ৬টি বছর সেতুর কারণে দুই উপজেলার ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ব্যবস্থা স্থবির। এত দিন পর এলজিইডি কর্মকর্তারা বলেন নকশা সংশোধনের জন্য পাঠানো হয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু করা হবে। তারা এত দিন কি করেছে?’ প
আরেক বাসিন্দা মশিউর রহমান লাবু বলেন, ‘সংযোগ সড়ক না থাকায় হাজার হাজার মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রী, নারী, শিশু, বয়স্ক মানুষ বেশি ভোগান্তির শিকার হয়। সেতু দিয়ে পারাপারে অনেকে আহত হয়েছে। এই ব্রিজের কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করব।’
জৈনকাঠি ইসলামিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তুষার কান্তি ঘোষ বলেন, ‘মাধ্যমিক, প্রাথমিক ও একটি মাদ্রাসার শত শত শিক্ষার্থীরা সেতুর সংযোগ সড়ক না থাকায় বাঁশের সাঁকো কখনো ইটের ব্লকের সিঁড়ি দিয়ে চলাচল করে। এতে প্রায় সময়ই শিক্ষার্থীরা আহত হয়,যে কারণে বিদ্যালয়ে উপস্থিতি কমে যায়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বলব দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতুর সংযোগ সড়কের কাজ শেষ করে জনদুর্ভোগ লাঘবের বিষয়টি বিবেচনা করবেন।’
জানতে চাইলে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. মকবুল হোসেন বলেন, ‘আমি যোগদানের আগে এ নকশা করা হয়েছিল। সেই নকশায়ই মূল সেতুর কাজ শেষ হয়। পরে ভুল ধরা পড়লে কাজ বন্ধ রাখা হয়। এখন নতুন করে নকশা করা হয়েছে। যার অনুমোদনও শেষ। টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হলেই কাজ শুরু করা হবে।’
দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, ‘মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করার জন্য বিষয়টি নিয়ে এলজিইডি অফিসের দায়িত্বরত কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতুর কাজ শুরু করার বিষয়টি আলোচনা করব।’
সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক
| শেয়ার করতে ক্লিক করুন: | Tweet |


