চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার – দৈনিক আজাদী

চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার – দৈনিক আজাদী

চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) গভীর রাতে যশোর শহরের ঝুমঝুমপুর সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রাম জেলা ও যশোর জেলা পুলিশের যৌথ টিম।

দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থেকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, চাঁদার জন‍্য হামলা এবং গোলাগুলির মতো ঘটনা ঘটিয়ে চট্টগ্রামকে অস্থির করে তুলেছিল এই কুখ্যাত সন্ত্রাসী। এই সন্ত্রাসীকে ধরতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের একাধিক বিশেষ টিম দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আসছিল।

অবশেষে যশোর জেলা পুলিশের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ডেভিড ইমনের গ্রেফতারের খবরে সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি দেখা দিয়েছে।

যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে ঝুমঝুমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডেভিড ইমনকে আটক করা হয়। আজ বুধবার সকাল ১০টার দিকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের একটি বিশেষ টিমের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

অভিযানে যশোর জেলা পুলিশের বিশেষায়িত একটি দল অংশ নেয়।

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, ডেভিড ইমন ও তার সহযোগী রায়হানসহ দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তারে জেলা পুলিশের একাধিক টিম দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। যশোর থেকে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। একই সময়ে নোয়াখালীতে আরেকটি টিম রায়হানকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালালেও তিনি অল্পের জন্য পালিয়ে যান। তাকেও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারের পুরো অভিযান, তার বিরুদ্ধে থাকা মামলার সংখ্যা, সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক, আত্মগোপনের কৌশল এবং পরবর্তী তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে।

ডেভিড ইমনের গ্রেপ্তারের আগে তার দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে বিদেশি অস্ত্র ও গুলিসহ আটক করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। গত রবিবার রাতে নগরের অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়কের ওয়াজেদিয়া এলাকা থেকে মো. আসিফ (২৫) ও সাইদুল ইসলাম ওরফে আরিফ (২৪) নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে আসিফ একটি মামলার পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি।

সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ জানান, আসিফকে গ্রেপ্তারের সময় তার কোমর থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। একই অভিযানে আরিফের প্যান্টের পকেট থেকে আরও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন নিজেদের ডেভিড ইমনের সহযোগী বলে স্বীকার করেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, আধিপত্য বিস্তার এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কথাও স্বীকার করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র জানায়, ডেভিড ইমন দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের অপরাধ জগতের একটি সক্রিয় নাম। তার বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, চাঁদাবাজি, অস্ত্র, মাদক, দখলবাজি ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান এবং স্থান পরিবর্তন করে দেশের বিভিন্ন জেলায় অবস্থান করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার রোধে বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তালিকা হালনাগাদ করা, তাদের সহযোগীদের শনাক্ত করা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার কার্যক্রম চলছে। ডেভিড ইমনের গ্রেপ্তারকে সেই ধারাবাহিক অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, ডেভিড ইমনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক, অর্থের উৎস, অস্ত্র সরবরাহকারী, সহযোগীদের অবস্থান এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন অপরাধমূলক ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে আরও কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসী ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হবে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

Explore More Districts