| ২৬ July ২০২৬ Sunday ৫:৪৫:৪২ PM | |
পাথরঘাটা ((বরগুনা) প্রতিনিধি:

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে মাছ ধরার ট্রলার ও পণ্যবাহী ছোট জাহাজ থেকে মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে নিয়মিত মাসোহারা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে জেলের ছদ্মবেশে অনুসন্ধানে যাওয়া একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল (আরটিভি)-এর সাংবাদিকের কাছ থেকেও চাঁদা দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট টেলিভিশনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওচিত্রেরও উল্লেখ রয়েছে।
স্থানীয় জেলে ও ট্রলারসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, চরদুয়ানী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির কিছু সদস্য দীর্ঘদিন ধরে নদী ও সাগরে চলাচলকারী মাছ ধরার ট্রলার এবং পণ্যবাহী ছোট জাহাজ থেকে প্রতি মাসে দুই থেকে তিন হাজার টাকা করে মাসোহারা আদায় করছেন। নির্ধারিত অর্থ না দিলে মামলা দিয়ে হয়রানি কিংবা মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়ের ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ তাদের।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সাধারণ জেলের ছদ্মবেশে থাকা সাংবাদিকদের কাছ থেকেও মামলার ভয় দেখিয়ে নগদ ও বিকাশের মাধ্যমে অর্থ নেওয়া হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এএসআই কবির হোসেন নামে এক পুলিশ সদস্য ওই অর্থ গ্রহণ করেন। পরে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনে কথা বলেন। সেই কথোপকথনের কল রেকর্ডও সংরক্ষিত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করে আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী। তিনি বলেন, জেলেদের নিরাপদ ও হয়রানিমুক্তভাবে মাছ ধরার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, তথ্য-প্রমাণ নিয়ে সংশ্লিষ্ট টেলিভিশনের টিম চরদুয়ানী নৌ-পুলিশ ফাঁড়িতে গেলে সেখানে দায়িত্বরত সদস্যরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান।
তবে চরদুয়ানী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. গজ গভীর মিয়া ক্যামেরার সামনে চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে পাথরঘাটা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হাসিবুল হক বলেন, জেলেদের কাছ থেকে নৌ-পুলিশের অর্থ নেওয়ার বিষয়ে আগেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত ভিডিওচিত্রটিও তিনি দেখেছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
স্থানীয় জেলেরা জানান, নদী ও সাগরে জলদস্যুর আতঙ্কের পাশাপাশি এখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্যের হয়রানিও তাদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
নদীপথে চাঁদাবাজি বন্ধ করে নিরাপদ ও হয়রানিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
উল্লেখ্য, উপজেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পাথরঘাটা উপজেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১৬ হাজার ৮২০ জন। তবে জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির দাবি, নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত মিলিয়ে এ উপজেলায় জেলের সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার।
সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক
| শেয়ার করতে ক্লিক করুন: | Tweet |

