
ঢাকা, ২৬ জুলাই – মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে গত শুক্রবার উদ্ধার হওয়া পাইপ বোমাটির সঙ্গে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উল্টো রথযাত্রার কোনো সম্পর্ক নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওই দিন সেখানে বোমা উদ্ধারের বিষয়টি স্রেফ কাকতালীয়। রথযাত্রা ও উল্টো রথযাত্রা যেন সুচারুভাবে সম্পন্ন হয় সেজন্য সকল আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, বোমা উদ্ধারের ঘটনাটি দুর্ঘটনাবশত একই দিনে ঘটলেও এর সঙ্গে উৎসবের কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে ভিন্ন মত প্রকাশ করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ শামসুল হক জানিয়েছেন, একটি পরিত্যক্ত ছাতার ভেতরে কৌশলে বোমাটি স্থাপন করা হয়েছিল। ছাতাটি খোলার চেষ্টা করলেই বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটতে পারত। পুলিশের ধারণা, উল্টো রথযাত্রাকে লক্ষ্য করেই জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি বা বড় কোনো নাশকতার জন্য এটি সেখানে রাখা হয়েছিল।
মতিঝিল জোনের সহকারী কমিশনার হুসাইন মুহাম্মাদ ফারাবী জানান, স্থানীয়রা ছাতার ভেতর থেকে আলো জ্বলতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরবর্তী সময়ে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে ডিভাইসটি অকেজো করে দেয়।
উদ্ধার হওয়া বোমাটি ছিল মূলত একটি শক্তিশালী পাইপ বোমা বা আইইডি। এতে প্রায় দেড় কেজি সালফার এবং প্রচুর পরিমাণে লোহা ও তারকাঁটা ব্যবহার করা হয়েছিল যা স্প্লিন্টারের কাজ করত।
এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন এসআই মো. মুক্তা। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে বোমাটি রাখা হয়েছিল।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলামও রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে নাশকতার পরিকল্পনার বিষয়টি উড়িয়ে দিচ্ছেন না। পুরো ঘটনাটি বর্তমানে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে পুলিশ ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা।
শুক্রবার রাতে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করার সময় এক পথচারী সামান্য আহত হন বলে জানা গেছে।
এনএন/ ২৬ জুলাই ২০২৬




