
আটলান্টা, ১৬ জুলাই – আটলান্টার শ্বাসরুদ্ধকর সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। এই জয়ের মধ্য দিয়ে নিশ্চিত হয়েছে একটি মহাকাব্যিক লড়াই।
আগামী রোববার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বসেরার মুকুটের লড়াইয়ে ইউরোপীয় পরাশক্তি স্পেনের মুখোমুখি হবে আলবিসেলেস্তেরা। আসন্ন এই ব্লকবাস্টার ফাইনালকে ঘিরে ফুটবল বিশ্বে এখন অন্যরকম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন দুই প্রজন্মের দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি এবং লামিনে ইয়ামাল।
বার্সেলোনার ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ফুটবলার ৩৯ বছর বয়সী মেসি এবং একই ক্লাবের ১৯ বছর বয়সী বিস্ময় বালক ইয়ামাল এবারই প্রথম প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে একে অপরের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। তবে মাঠের এই লড়াই প্রথম হলেও তাদের পরিচয় প্রায় দুই দশক আগের। তখন ইয়ামাল ছিলেন এক দুগ্ধপোষ্য শিশু আর মেসি ছিলেন ২০ বছরের এক উদীয়মান প্রতিভা।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু পুরনো ছবি এই ফাইনালের গুরুত্বকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ভাইরাল হওয়া সেই ছবিগুলোতে দেখা যায় একটি বাথটাবে বসে আছে ছোট্ট ইয়ামাল। পাশে তার মা শেইলা ইবানা এবং হাস্যোজ্জ্বল মেসি। কাঁধ পর্যন্ত লম্বা চুলে মেসি তখন ইয়ামালের মাকে তার সন্তানকে গোসল করাতে সাহায্য করছিলেন।
এই বিরল ছবিগুলো প্রথম প্রকাশ্যে এনেছিলেন ইয়ামালের বাবা। পরবর্তীতে প্রখ্যাত সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানোর মাধ্যমে তা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।
এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের নেপথ্যের কারিগর ছিলেন ফ্রিল্যান্স আলোকচিত্রী জোয়ান মনফোর্ট। ২০০৭ সালের শরতে বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যু স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমে ইউনিসেফ এবং স্প্যানিশ দৈনিক দিয়ারিও স্পোর্টের একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের জন্য এই ছবিগুলো তোলা হয়েছিল। মনফোর্ট জানান, ইউনিসেফের লটারিতে জিতে ইয়ামালের পরিবার বার্সার খেলোয়াড়দের সঙ্গে ছবি তোলার সুযোগ পেয়েছিল।
আলোকচিত্রী মনফোর্টের মতে, সেই সময় মেসি ছিলেন অত্যন্ত লাজুক স্বভাবের। ড্রেসিংরুমে ঢুকে যখন তিনি পানি ভর্তি বাথটাবে একটি শিশুকে দেখলেন, তখন তিনি প্রথমে বেশ দ্বিধায় পড়ে গিয়েছিলেন। এরপর ইয়ামালের মায়ের সহযোগিতায় মেসি ছবিগুলো তুলেছিলেন। দীর্ঘ সময় পর নিজের তোলা ছবি এভাবে আলোচনার তুঙ্গে আসায় মনফোর্ট নিজেও বেশ উচ্ছ্বসিত।
সেদিনের সেই ছোট্ট ইয়ামাল আজ স্পেনের অন্যতম প্রধান ভরসা। মাত্র ১৫ বছর বয়সে বার্সেলোনার মূল দলে অভিষেক ঘটিয়ে তিনি ইতোমধ্যেই নিজের জাত চিনিয়েছেন। জিতেছেন লা লিগা এবং ইউরো কাপের শিরোপাও।
সম্প্রতি মেসিকে হারানোর ইচ্ছার কথাও ব্যক্ত করেছেন এই তরুণ তুর্কি। তিনি জানান, মেসির মুখোমুখি হওয়া তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল। এখন ফাইনালের মঞ্চে সেই সুযোগ আসায় তিনি রোমাঞ্চিত।
ফুটবল ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম খেলোয়াড় মেসির যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে ইয়ামালকে অনেকেই দেখছেন। তবে সেই সাফল্যের শিখরে পৌঁছাতে তাকে পাড়ি দিতে হবে বন্ধুর পথ। আর সেই যাত্রার সূচনায় বিশ্বকাপ ফাইনালে মেসির বিপক্ষে জয় হতে পারে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জন।
এনএন/ ১৬ জুলাই ২০২৬




