ইরানের সব বন্দরে ট্রাম্পের নৌ অবরোধ, অবকাঠামোতে হামলার হুঁশিয়ারি – DesheBideshe

ইরানের সব বন্দরে ট্রাম্পের নৌ অবরোধ, অবকাঠামোতে হামলার হুঁশিয়ারি – DesheBideshe



ইরানের সব বন্দরে ট্রাম্পের নৌ অবরোধ, অবকাঠামোতে হামলার হুঁশিয়ারি – DesheBideshe

তেহরান, ১৫ জুলাই – মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সব বন্দরে পুনরায় নৌ অবরোধ কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তেহরানকে আলোচনার টেবিলে ফেরার আলটিমেটাম দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, দাবি মানা না হলে আগামী সপ্তাহেই দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে বড় ধরনের হামলা চালানো হবে।

সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এটি সর্বশেষ বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার সক্ষমতা দুর্বল করতেই ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় এই অভিযান চালানো হচ্ছে। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে তেহরান আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করেছে। ফলে কয়েক মাস আগে হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে আপাতত লক্ষ্যবস্তু করা না হলেও শেষ পর্যন্ত সেগুলোও হামলার শিকার হতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি আলোচনার টেবিলে না ফেরে তবে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুর মতো স্থাপনাগুলোতেও হামলা হবে। যদিও আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক স্থাপনায় হামলা নিষিদ্ধ। দুই দেশের মধ্যে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নিয়ে পাল্টাপাল্টি দাবি অব্যাহত রয়েছে।

ইরান দাবি করেছে তারা জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। এছাড়া কুয়েত ও বাহরাইনের সামরিক গুদামে হামলার দাবিও করেছে তারা। এই উত্তেজনার প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ওপর পড়ছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের এক পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়।

গত সাত দিনে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৫ ডলারে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল সতর্ক করেছে যে এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় সংকট তৈরি হতে পারে।

ইরানের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেছেন, সামরিক অভিযান ও অবরোধ দিয়ে তাদের আলোচনায় ফেরানো যাবে না। বর্তমানে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ২০টির বেশি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে।

সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় মার্কিন জনমতেও বিভক্তি দেখা দিয়েছে। রয়টার্সের এক জরিপ অনুযায়ী, অর্ধেক মার্কিন নাগরিক এই যুদ্ধে ব্যয়ের সার্থকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

এনএন/ ১৫ জুলাই ২০২৬



Explore More Districts