| ৯ July ২০২৬ Thursday ৭:৪৬:২১ PM | |
নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার অলংকারকাঠি গ্রামে এক রাতে পরপর তিনটি বাড়িতে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ২০ মিনিট থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীদের দাবি, নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান মালামাল মিলিয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকার সম্পদ লুট করে নিয়ে গেছে ডাকাতেরা।
ঘটনার খবর পেয়ে নেছারাবাদ-কাউখালী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ডাকাতির শিকার হওয়া পরিবারগুলো হলো জগন্নাথকাঠি বন্দরের সাবেক সভাপতি মো. আব্দুস সালাম, কাঞ্চন কাজীর ছেলে মোহাম্মদ তপু কাজী এবং মোহাম্মদ লিটু কাজীর পরিবার।
ভুক্তভোগী তপু কাজীর ভাষ্য, রাত আনুমানিক ১টা ২০ মিনিটে সংঘবদ্ধ ডাকাত দল তাঁর বাড়ির পেছনের দরজা ভেঙে প্রবেশ করে। এ সময় তারা পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে ফেলে। ডাকাতদের হাতে রামদা, শাবল, বড় রেঞ্জ, কাঁচিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ছিল। প্রায় ২টা পর্যন্ত বাড়িতে অবস্থান করে তারা স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থসহ আনুমানিক ১০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
এরপর রাত আড়াইটার দিকে ডাকাতেরা লিটু কাজীর টিনশেড বাড়ির সামনের লোহার দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, ডাকাতেরা চার আনা ওজনের একটি স্বর্ণের আংটি, দুটি রুপার চেইন, দুটি নূপুর এবং নগদ ১২ হাজার টাকা লুট করে। রাত ৩টার দিকে তারা বাড়িটি ছেড়ে যায়।
একই রাতে ৩টার দিকে ডাকাত দল জগন্নাথকাঠি বন্দর এলাকার আব্দুস সালামের বাড়ির সামনের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। সে সময় বাড়িতে তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়ে ছিলেন। আব্দুস সালামের অভিযোগ, ডাকাতেরা তাঁদের একটি কক্ষে আটকে রেখে নগদ এক লাখ টাকা এবং সাড়ে তিন ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে ভোরের দিকে এলাকা ত্যাগ করে।
এসব ঘটনায় অলংকারকাঠি গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একই রাতে পরপর তিনটি বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাঁরা দ্রুত ডাকাতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং এলাকায় পুলিশি টহল জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোররাতে সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। ডাকাতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ বা মামলা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক
| শেয়ার করতে ক্লিক করুন: | Tweet |


