| ৮ July ২০২৬ Wednesday ৮:০৯:৩৭ PM | |
বরগুনা প্রতিনিধি:

বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল বঙ্গোপসাগরে ইলিশ শিকার করতে গিয়ে বরগুনার তালতলী উপজেলার ‘এফবি মহিমা’ নামের একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে গেছে। দুর্ঘটনার সময় ট্রলারটিতে ১৮ জন জেলে ছিলেন। তাদের মধ্যে ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও ট্রলারসহ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ২ জেলে।
ঘটনার দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনও তাদের কোনো সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজদের উদ্ধারে কোস্টগার্ড, ট্রলার মালিক সমিতি ও স্থানীয় জেলেরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন।
বুধবার (৮ জুলাই) ভোররাতে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে গভীর বঙ্গোপসাগরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ দুই জেলে হলেন, বরগুনার তালতলী উপজেলার ছোট আমখোলা গ্রামের কালাম পাইক (৬০) ও শহীদুল খান (৫৫)।
তালতলীর ফকিরহাট এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ট্রলারডুবির দুর্ঘটনার পর তালতলীর মৌডুবি এলাকার একটি মাছ ধরার ট্রলারের জেলেরা ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে সাগরে ভাসতে থাকা ১৬ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করেন। পরে তাদের নিরাপদে পটুয়াখালীর মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়। তবে কালাম পাইক ও শহীদুল খানকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
উদ্ধার হওয়া জেলে কামাল ও জামাল জানান, ট্রলারটি ডুবে যাওয়ার সময় কালাম পাইক ও শহীদুল খান ট্রলারের ভেতরে ছিলেন। আকস্মিকভাবে ট্রলারটি তলিয়ে যাওয়ায় তারা বের হতে পারেননি বলে তাদের ধারণা। এরপর থেকে তাদের আর দেখা যায়নি।
ডুবে যাওয়া ট্রলারের মালিক তপন জমাদ্দার জানান, মঙ্গলবার ভোরে তালতলীর ফকিরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র থেকে ১৩ জন জেলেকে নিয়ে ইলিশ শিকারের উদ্দেশ্যে গভীর সাগরে যায় এফবি মহিমা। মাছ ধরার সময় কাছাকাছি থাকা অপর একটি ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়লে মানবিক কারণে ওই ট্রলারের পাঁচ জেলেকে উদ্ধার করে নিজেদের ট্রলারে আশ্রয় দেওয়া হয়। এতে ট্রলারটিতে মোট জেলের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৮ জন।
তিনি বলেন, এরপর আবহাওয়ার আকস্মিক অবনতি ঘটে। প্রবল বাতাসে সাগর উত্তাল হয়ে ওঠে এবং বড় বড় ঢেউ ট্রলারটিতে আঘাত হানতে থাকে। একপর্যায়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। ট্রলারডুবির পর সব জেলে সাগরে ভাসতে থাকেন।
তবে ট্রলার মালিকের দাবি, বৈরী আবহাওয়ার পাশাপাশি অপর একটি ট্রলারের ধাক্কাও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হতে পারে। বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, নিখোঁজ দুই জেলেকে উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। পাথরঘাটা কোস্টগার্ড ও ট্রলার মালিক সমিতির উদ্যোগে চারটি ছোট ট্রলার সম্ভাব্য এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে।
তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল ইসলাম বলেন, দুই জেলে নিখোঁজ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের উদ্ধারে কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে।
তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ট্রলারডুবির ঘটনায় ১৮ জন জেলের মধ্যে ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ দুই জেলেকে উদ্ধারে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে।
সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক
| শেয়ার করতে ক্লিক করুন: | Tweet |
