
তেহরান, ৬ জুলাই – ইরানের ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম এবং আবেগঘন এক অধ্যায়ের সাক্ষী হতে যাচ্ছে রাজধানী তেহরান। দেশটির প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কফিন আজ সোমবার (৬ জুলাই) নিয়ে যাওয়া হবে ঐতিহাসিক আজাদি স্কয়ারে। ১৯৭৯ সালের যে ইসলামি বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ইরানে ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেই বিপ্লবের অন্যতম প্রতীক এই আজাদি স্কয়ারেই লাখ লাখ মানুষ সমবেত হয়ে তাদের প্রিয় নেতাকে শেষশ্রদ্ধা জানাবেন।
এর আগে গতকাল রোববার তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় খামেনির প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অংশ নেন লাখো শোকার্ত মানুষ। এবার গ্র্যান্ড মোসাল্লা থেকে তাঁর কফিন আজাদি স্কয়ারের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
মাইলব্যাপী শোকমিছিল
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, আজ তেহরানের বুকে বেশ কয়েক মাইল দীর্ঘ এক অভূতপূর্ব শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইমাম হোসেন স্কয়ার থেকে শুরু করে আজাদি স্কয়ার পর্যন্ত বিস্তৃত এই মিছিলে লাখ লাখ মানুষের ঢল নেমেছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রথম দিনেই ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হন। তবে বিধ্বংসী যুদ্ধের কারণে দীর্ঘ চার মাসেরও বেশি সময় পর অবশেষে রাষ্ট্রীয়ভাবে তাঁদের দাফন সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। গত শুক্রবার থেকে এই শোকানুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে এবং জানাজা উপলক্ষে গতকাল ও আজ সোমবার ইরানে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
৫ দিনের বিদায়ী সফরসূচি
তেহরানের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী কয়েক দিন ধরে খামেনির কফিন নিয়ে যাওয়া হবে শিয়া মুসলিমদের বিভিন্ন পবিত্র স্থানে:
- আজ সোমবার: তেহরানের ইমাম হোসেন স্কয়ার থেকে আজাদি স্কয়ার পর্যন্ত শোকমিছিল ও শ্রদ্ধা নিবেদন।
- আগামীকাল মঙ্গলবার: মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে শিয়াদের পবিত্র নগরী কোমে।
- আগামী পরশু বুধবার: কফিন যাবে প্রতিবেশী দেশ ইরাকে। সেখানে নাজাফ ও কারবালা শহরে শোকযাত্রা এবং জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
- আগামী বৃহস্পতিবার: খামেনির মরদেহ তাঁর জন্মস্থান উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে ফিরিয়ে আনা হবে এবং সেখানেই তাঁকে শেষশয্যায় শায়িত করা হবে।
বিশ্বের বুকে ইরানের ‘ক্ষমতা ও ঐক্যের’ বার্তা
আল–জাজিরার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের কাছে এই বিশাল আনুষ্ঠানিকতা কেবল এক নেতার প্রতি শোক প্রকাশের বিষয় নয়। চার দশক ধরে ইরানকে নেতৃত্ব দেওয়া খামেনির হত্যাকাণ্ডের পর, এই শোকযাত্রার মাধ্যমে বিশ্বকে একটি শক্ত বার্তা দিচ্ছে তেহরান।
দেশটি দেখাতে চাচ্ছে যে, খামেনির গড়ে তোলা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো সম্পূর্ণ অক্ষত ও শক্তিশালী রয়েছে এবং তাঁর মৃত্যুর পরও ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া কোনো ধরনের বিঘ্ন ছাড়াই অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে চলছে। এই শোকমিছিল যেন একাধারে গভীর শোকের, আবার অন্যদিকে পশ্চিমা শক্তির বিরুদ্ধে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংহতি ও প্রতিরোধের এক বিশাল শোডাউন।
এনএন/ ৬ জুলাই ২০২৬




