ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি: বিএনপি’র করার কারণে এমন কোন ধরনের নির্যাতন নেই যে করা হয়নি, চোখ বেঁধে তুলে নিয়ে ডিবি অফিসে গিয়ে প্লাস দিয়ে তোলা হয় হাতে নখ, নখের ভেতর ঢুকানো হয় সুই। একটি মসজিদের ইমামের কাছে নিয়ে তওবা পড়ানো হয়, কালো কাপড় বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয় গভীর জঙ্গলে, চালানো হয় অমানবিক নির্যাতন। পরে সাজানো ও মিথ্যা ঘটনার একটি মামলায় আদালতে উপস্থাপন করে রিমান্ড চাওয়া হয়। বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের এমন নির্যাতনের বর্ণনা করেছেন শ্রীপুর পৌর বিএনপির সদস্য সচিব বিল্লাল হোসেন বেপারি।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) শ্রীপুরের সিসিডিবি ক্লাইমেট সেন্টারের সভাকক্ষে বিগত সরকারের আমলে কারা নির্যাতিত নেতাদের সংগঠন শ্রীপুর উপজেলা ও পৌর নির্যাতিত ঐক্য ফোরামের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জেল জীবনের দিনগুলো স্মরণ করেন। অনুষ্ঠানে উপজেলার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে জেল জীবনের নির্মম কষ্ট বর্ণনার সময় এক আবেগঘন পরিবেশের তৈরি হয়। সংগঠনের সভাপতি আরিফুল ইসলাম সরকারের সভাপতিত্বে, সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ মিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডাঃ এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু।
শ্রীপুর পৌর বিএনপি’র সদস্য সচিব বিল্লাল হোসেন বেপারি জানান, তৎকালীন সরকারের রাজনৈতিক আক্রোশের শিকার হয়ে কয়েকবার কারাবরণ করেছেন, হয়েছেন কয়েক ডজন মামলার আসামী। তৎকালীন গাজীপুরের পুলিশ সুপার থাকাকালীন হারুনের রোষানলে পড়েন। তাকে গ্রেপ্তার করে চালানো হয় শারিরিক নির্যাতন। নির্যাতন থেকে বাঁচতে পরিবারের সদস্যদের কাছে টাকা দাবি করা হয়। পরে ধাপে ধাপে ধার দেনা করা দেড় কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়।
যুবদলের রাজনীতি সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন গাজীপুর জেলা যুবদলের যুগ্ন আহŸায়ক আরিফুল ইসলাম সরকার। দায়িত্ব পালন কালে ৫১টি মামলার আসামী হয়েছিলেন। কয়েক ধাপে ১৮৬দিন জেলে খেটেছেন।
আরিফুল ইসলাম সরকার জানান, কন্যা সন্তানের জন্মের খবর শুনেছেন কারাগার থেকেই, সেই সন্তানের মুখটাও দেখেছেন কারাগারের ভেতরে থেকেই। গ্রেপ্তার হওয়ার পরপরই তাকে নেয়া হয় টর্চার সেলে। চালানো হয় শারিরিক, মানসিক নির্যাতন।
শ্রীপুর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আমিনুল ইসলাম সরকার। ২০২৩সালে বিএনপি’র ডাকা হরতালের শ্রীপুরের জৈনা বাজার এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ অবরোধ তৈরি করেন। এ ঘটনায় একই বছরের ২ নভেম্বর রাতে ময়মনসিংহের ভালুকার স্কয়ার মাস্টারবাড়ি থেকে র্যাব-১ কর্তৃক গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
গ্রেপ্তারের পর, চোখে ও মাথায় কালো কাপড় বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয় র্যাব প্রধান কার্যালয়ে। সেখানে নিয়ে শারিরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। ভোররাতে একটি কক্ষে বেধড়ক পেটানো হয়। এসময় বিএনপি আন্দোলন নিয়ে পরিকল্পনা জানতে চায় র্যাব সদস্যরা। কোন তথ্য না পেয়ে আক্রোশের বর্শবর্তী হয়ে সেখানকার একটি কক্ষে দুইদিন তাকে বন্দি করে রাখা হয়। বন্দিশালায় থেকে বেলার মধ্যে এক বেলা কখনো দুই বেলা খাবার দেয়া হতো। প্রায় পাঁচ মাস পর তিনি উচ্চ আদালতে নির্দেশ জামিনে মুক্ত হন।
অনুষ্ঠানে নির্যাতিত নেতাদের মধ্যে বিগত ১৭ বছরে ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্যাতিনের স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন, বীরমুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক, বিল্লাল হোসেন বেপারী, মোসলেম উদ্দিন মৃধা, অ্যাডভোকেট আবু জাফর, অ্যাডভোকেট আহসান কবির, আবুল হোসেন প্রধান, রাজীবুল বেপারী, মামুন আকন, মোক্তারুল করিম মোড়ল শামীম প্রমুখ।


