বৈশ্বিক মাদক সমস্যা নিত্যনতুন রূপে সামনে আসছে, আমরা কতটা প্রস্তুত

বৈশ্বিক মাদক সমস্যা নিত্যনতুন রূপে সামনে আসছে, আমরা কতটা প্রস্তুত

এ বছরের প্রতিপাদ্য, ‘ওয়ার্ল্ড ড্রাগ প্রবলেম: পারসিসটিং ইস্যু, নিউ চ্যালেঞ্জ, ইনোভেটিভ রেসপন্সেস’ আমাদের সেই কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। বৈশ্বিক মাদক সমস্যা আজ নিত্যনতুন রূপ ধরে আমাদের সামনে এসে দাঁড়াচ্ছে। এসব বাধা অতিক্রম করতেও প্রয়োজন উদ্ভাবনী সমাধান। একজন মানুষকে মাদক থেকে দূরে রাখা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি যাঁরা ইতিমধ্যে আসক্ত হয়ে পড়েছেন, তাঁদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সুযোগ নিশ্চিত করাও সমান জরুরি। একটি মানবিক সমাজ কখনো কাউকে চিরতরে ব্যর্থ বলে ঘোষণা করে না, বরং তাঁকে নতুন করে শুরু করার সুযোগ দেয়।

তবে মাদকাসক্তিকে মানসিক ব্যাধি হিসেবে চিনে চিকিৎসা শুরু করাটা আমাদের দেশে এখনো অনেক কঠিন। মানসম্মত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের ঘাটতি, দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ব্যয়, বারবার রিল্যাপস, সমাজের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি, অতি প্রয়োজনীয় ওষুধের অপ্রাপ্যতা, প্রচলিত আইন অনুসারে অপরাধীকরণ সর্বোপরি দিবসভিত্তিক এক গাদা মৌখিক আশ্বাসে যেন সবকিছু থেমে যায়। যে মরণ ব্যবসার আকার কয়েক লাখ কোটি টাকা। প্রতিবছর সেখানে বছরে ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকা খরচ করে দৃশ্যমান কোনো ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রত্যাশা বাস্তবসম্পন্ন নয়।

আন্তর্জাতিক মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী দিবস উপলক্ষে আমাদের প্রত্যাশা হোক এমন একটি সমাজ, যেখানে তরুণেরা স্বপ্ন দেখবেন, পরিবারগুলো নিরাপদ থাকবে, চিকিৎসাসেবা সবার জন্য সহজলভ্য হবে এবং মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে রাষ্ট্র ও সমাজ একসঙ্গে অবস্থান নেবে। কারণ, শারীরিক ও মানসিকভাবে সক্ষম একটি প্রজন্মই পারে একটি সুস্থ, উৎপাদনশীল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে।

  • ডা. মো. রাহেনুল ইসলাম মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, সেন্ট্রাল ড্রাগ অ্যাডিকশন ট্রিটমেন্ট সেন্টার, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, ঢাকা

Explore More Districts