সাহাবি আবু জরের একটি ঘটনা। নবীজি (সা.) তাঁকে একদিন জিজ্ঞেস করলেন, সম্পদ বেশি হওয়াটাই কি ঐশ্বর্য, আর কম হওয়াটাই কি দারিদ্র্য?
আবু জর সরল স্বীকারোক্তিতে বললেন, হ্যাঁ।
নবীজি তখন শুধরে দিলেন, ‘অন্তরের অভাবমুক্তিই প্রকৃত ঐশ্বর্য, আর মনের দারিদ্র্যই প্রকৃত দারিদ্র্য।’
এরপর তিনি দুজন মানুষের কথা তুললেন, একজন কোরাইশের প্রভাবশালী, ধনী ব্যক্তি, যাকে সবাই খুশি মনে গ্রহণ করে। আরেকজন ‘সুফফা’র (মসজিদে নববির একটি চবুতরা) এক অপরিচিত, দরিদ্র মানুষ, যাকে আবু জর চিনতেনই না। নবীজি বললেন, ‘এই দরিদ্র মানুষটি সেই ধনী লোকের চেয়ে উত্তম—পৃথিবীর সব মানুষের চেয়েও।’
আবু জর অবাক হয়ে বললেন, ‘কিন্তু ধনী লোকটিকে তো অনেক কিছু দেওয়া হয়েছে, আর এই মানুষকে কিছুই দেওয়া হয়নি!’
নবীজি জবাব দিলেন, ‘যদি তাকে ধনসম্পদ দেওয়া হয়, সে তার যোগ্য; আর যদি না দেওয়া হয়, তাকে তার চেয়ে বড় কিছু দেওয়া হয়েছে।’ (নাসায়ি, আস-সুনানুল কুবরা, হাদিস ১১৭৮৫)
এই হাদিসে একটি ভুল ধারণা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, এখানে সম্পদকে খারাপ বলা হয়নি, ধনী মানুষটাকেও দোষ দেওয়া হয়নি। বরং বলা হয়েছে, সম্পদ থাকা বা না-থাকা—দুটোই আল্লাহর পরীক্ষা, আর আসল মাপকাঠি হলো মানুষটার অন্তরে কী আছে।
ইসলাম সম্পদ অর্জনকে নিরুৎসাহিত করে না। সাহাবিদের মধ্যে ওসমান ইবনে আফফান বা আবদুর রহমান ইবনে আওফের মতো অনেকেই বিপুল সম্পদের মালিক ছিলেন, আর তাঁদের দানশীলতার জন্য প্রশংসিতও হয়েছেন।
পার্থক্যটা হলো, তাঁরা সম্পদের মালিক হলেও সম্পদ তাঁদের মালিক হয়ে উঠতে পারেনি।