
ঢাকা, ২ জুলাই – দেশে অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অবৈধ লেনদেন বন্ধে নতুন কঠোর আইন কার্যকর করেছে সরকার। রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর জুয়া প্রতিরোধ আইন ২০২৬ গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে।
এর মাধ্যমে ১৮৬৭ সালের পুরনো পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট বাতিল করা হলো। নতুন এই আইনে প্রথমবারের মতো অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ম্যাচ ফিক্সিং, ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং ডিজিটাল ওয়ালেটের মাধ্যমে অপরাধের সুস্পষ্ট সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে।
ইন্টারনেট, মোবাইল নেটওয়ার্ক বা ভিপিএন ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনা বা এতে অংশ নেওয়া এখন থেকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এমনকি বিদেশি কোনো জুয়া প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শাস্তির বিধানে বলা হয়েছে, সাধারণ জুয়ার জন্য সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে।
তবে অনলাইন জুয়ার ক্ষেত্রে এই সাজা বেড়ে পাঁচ বছরের জেল অথবা এক কোটি টাকা জরিমানা পর্যন্ত হতে পারে। এছাড়া বেটিং নেটওয়ার্ক পরিচালনা বা ভিপিএন ব্যবহার করে জুয়া চালানোর দায়ে সর্বোচ্চ সাত বছরের জেল ও পাঁচ কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। ম্যাচ ফিক্সিং এবং স্পট ফিক্সিংয়ের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে আইনে।
ম্যাচ ফিক্সিংয়ের দায়ে সাত বছরের জেল ও এক কোটি টাকা জরিমানা এবং স্পট ফিক্সিংয়ের দায়ে পাঁচ বছরের জেল ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। অপরাধী ব্যক্তি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বা স্থায়ীভাবে খেলাধুলা থেকে নিষিদ্ধ হতে পারেন।
জুয়া প্রসারে বিজ্ঞাপন বা প্রচারণা চালালে গণমাধ্যম, শিল্পী বা খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করা যাবে। এছাড়া ভুয়া সিম বা অন্যের এনআইডি ব্যবহার করে জুয়া চালালে সাত বছরের জেলের বিধান রয়েছে।
সংঘবদ্ধ অপরাধ বা অর্থপাচারের উদ্দেশ্যে জুয়া খেললে শাস্তি বেড়ে ১০ বছর এবং জরিমানা পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। আইন অনুযায়ী, জুয়াসংক্রান্ত অপরাধের বিচার হবে সাইবার ট্রাইব্যুনালে।
এসব অপরাধকে আমলযোগ্য এবং অজামিনযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। তদন্তের সুবিধার্থে পুলিশ অভিযুক্তের ব্যাংক বা এমএফএস হিসাব সাময়িকভাবে জব্দ করতে পারবে। আইনটি বাস্তবায়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিটিআরসি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
এস এম/ ২ জুলাই ২০২৬





