| ২৮ June ২০২৬ Sunday ৮:১৭:০৭ PM | |
গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:

উপজেলা প্রশাসনের কারণ দর্শানোর নোটিশের পরও পটুয়াখালীর গলাচিপায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে মেয়াদোত্তীর্ণ রুটি সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ এবং শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
শিক্ষকদের অভিযোগ, আগেও একই ধরনের ঘটনার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতে এমন ভুল হবে না বলে লিখিতভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছিল। কিন্তু মাস না পেরোতেই আবারও মেয়াদোত্তীর্ণ রুটি সরবরাহ করা হয়েছে।
গলাচিপা পৌর এলাকার সাংবাদিক গনি মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জেরিন সাগর জানান, শনিবার রুটি গ্রহণের সময় খোলা প্যাকেটের রুটিতে ২৯ জুন ২০২৬ পর্যন্ত মেয়াদ উল্লেখ থাকায় তিনি তা গ্রহণ করেন। পরে বন্ধ কার্টন খুলে দেখেন, বেশ কিছু রুটির গায়ে মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ২৬ জুন ২০২৬ লেখা রয়েছে।বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি বিতরণ বন্ধ করে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানান। পরে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখযুক্ত রুটিগুলো ফেরত নিয়ে যান। তবে এখন পর্যন্ত নতুন রুটি সরবরাহ করা হয়নি।
ডাকুয়া আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক সালমা বেগম বলেন, তাদের বিদ্যালয়ে দুই দিনের জন্য ৩৪৪টি রুটি দেওয়া হয়।এর মধ্যে ৪৪টি রুটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। সেগুলো আলাদা করে রাখা হলেও এখনো ফেরত নেওয়া হয়নি এবং নতুন রুটিও দেওয়া হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে সরবরাহকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পটুয়াখালী জেলার ম্যানেজার আমজাদ হোসেন বলেন, এটি তারিখ ছাপানোর ভুল। ২৯ জুনের পরিবর্তে ভুলবশত ২৬ জুন মুদ্রিত হয়েছে। নতুনভাবে কাজ শুরু করায় এ ধরনের ভুল হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।ভবিষ্যতে এমন ভুল হবে না বলেও জানান তিনি।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. গোলাম সগীর বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি একটি বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখেছেন, কিছু রুটিতে উৎপাদনের তারিখ ২৫ জুন এবং মেয়াদ ২৬ জুন উল্লেখ রয়েছে। আবার কিছু রুটিতে ২৯ জুন পর্যন্ত মেয়াদ লেখা আছে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান প্রিন্টিং ত্রুটির কথা জানিয়েছে। তবে ২৬ জুন মেয়াদ উল্লেখ থাকা সব রুটি বিদ্যালয়গুলো থেকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেগুলো অপসারণ না করলে বিল পরিশোধ করা হবে না এবং ওই রুটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণও করা যাবে না।
তিনি আরো বলেন, কয়েক সপ্তাহ আগেও একই ধরনের ঘটনায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তখন তারা ভবিষ্যতে এমন ভুল না হওয়ার আশ্বাস দিলেও আবারও একই ঘটনা ঘটেছে।
গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, আগের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল এবং তারা জবাবও দিয়েছে। সর্বশেষ অভিযোগটি তার জানা ছিল না। তবে শিশুদের খাবার নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক
| শেয়ার করতে ক্লিক করুন: | Tweet |

