তালতলীতে প্রকৌশলীর অডিও ভাইরাল: ‘বদলি হতে ৮-১০ লাখ টাকা দিতে হয়’

তালতলীতে প্রকৌশলীর অডিও ভাইরাল: ‘বদলি হতে ৮-১০ লাখ টাকা দিতে হয়’

২৮ June ২০২৬ Sunday ২:২৪:১৬ PM

Print this E-mail this


তালতলী ((বরগুনা) প্রতিনিধি:

তালতলীতে প্রকৌশলীর অডিও ভাইরাল: ‘বদলি হতে ৮-১০ লাখ টাকা দিতে হয়’

বরগুনার তালতলী উপজেলার তুলাতলী-নিউপাড়া সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ কেন্দ্র করে উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাখাওয়াত হোসেনের একটি কথোপকথন ফাঁস হয়েছে। ফেসবুকে অডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা উঠেছে। অডিওতে ঠিকাদারি কাজ বিক্রি, নিন্মমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং বদলির ক্ষেত্রে ‘জায়গামতো ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা দিতে হয়’ ইত্যাদি মন্তব্য রয়েছে।  

জানা যায়, স্থানীয় সংবাদকর্মী সোহেল রানা টিএনটি রোড থেকে নিউপাড়া সড়কের তুলাতলী-নিউপাড়া অংশটুকুর চার কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে উপজেলা প্রকৌশলী ও উপসহকারী প্রকৌশলীর কাছে যান। এ সময় তাদের সঙ্গে ফোনে দীর্ঘ আলাপ হয়। 

কথোপকথনে দাবি করা হয়, ‘সড়কটির মূল ঠিকাদার আঁখি কনস্ট্রাকশনের মো. বাদলের কাজ হলেও তিনি কাজটি নয়ন মৃধার কাছে বিক্রি করেছেন। বর্তমানে নয়ন মৃধা সাব-ঠিকাদার হিসাবে কাজ পরিচালনা করছেন।’

অডিওতে উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন সাংবাদিককে বলেন, ‘আপনি যে বিষয়টি ধরেছেন, সেটা ভালো ও ঠিক আছে। তবে এটার জন্য পুরো ইঞ্জিনিয়ারিং অফিস দায়ী এটাও ঠিক নয়।’ একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘দরপত্রে সর্বনিন্ম দর দেওয়ার পর ভ্যাট, আয়কর ও অন্যান্য ব্যয় মিটিয়ে লাভের জন্য অনেক ঠিকাদার কাজ অন্যের কাছে বিক্রি করেন।’ 

অডিওর শেষ অংশে নিজের বদলি প্রসঙ্গে উপজেলা প্রকৌশলীকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা আপনাদের উপজেলায় সারাজীবনের জন্য আসিনি। দুই-আড়াই বছর হয়ে গেছে। বাংলাদেশে ৪৯৫টি উপজেলার মধ্যে এটি জেড ক্যাটাগরির উপজেলা। এখানে কেউ আসতে চায় না। আমি যদি জোর করে চলে যেতে চাই, তাহলে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা জায়গামতো (ঘুস) দিয়ে যেতে হবে।’  

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, তুলাতলী-নিউপাড়া সড়ক নির্মাণ কাজের শুরু থেকেই বিভিন্ন অনিয়ম হচ্ছে। নিæমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে এবং কাদামাটি ও বালু মিশিয়ে কাজ করা হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের অংশবিশেষ নরম ও স্যাঁতসেঁতে হয়ে যায়।  

ওই প্রকৌশলীর দাবি, কক্ষে প্রবেশের আগেই ওই সাংবাদিক মোবাইলে রেকর্ডিং চালু করেছিলেন। আমি খোলামেলা কথা বলেছিলাম। কিন্তু তিনি সেসব কথোপকথোন রেকর্ড করে ফেসবুকে প্রকাশ করেছেন। এটা অন্যায়।

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

Explore More Districts