টাইমস হায়ার এসডিজি র‍্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বে ৮৭তম, দেশে শীর্ষে ড্যাফোডিল

টাইমস হায়ার এসডিজি র‍্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বে ৮৭তম, দেশে শীর্ষে ড্যাফোডিল

জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন ইতিহাস গড়েছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক শিক্ষা মূল্যায়ন সংস্থা টাইমস হায়ার এডুকেশন (টিএইচই) প্রকাশিত ‘সাসটেইনেবিলিটি ইমপ্যাক্ট রেটিংস ২০২৬’এ বিশ্বের ১ হাজার ৬৪৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৮৭তম স্থান অর্জন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। এর মাধ্যমে বিশ্বের শীর্ষ ১০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় জায়গা পাওয়া বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

বুধবার (২৪ জুন) প্রকাশিত এই র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের ২২টি পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে ৯টি পাবলিক এবং ১৩টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে।

র‍্যাঙ্কিং অনুযায়ী, বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। একই সঙ্গে এসডিজিভিত্তিক একাধিক সূচকে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। লক্ষ্য অর্জনে অংশীদারিত্ব (এসডিজি-১৭) সূচকে বিশ্বে ৪র্থ, মানসম্মত শিক্ষা (এসডিজি-৪) সূচকে ১২তম, শোভন কাজ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (এসডিজি-৮) সূচকে ৪৮তম এবং বৈষম্য হ্রাস (এসডিজি-১০) সূচকে ৬৮তম স্থান অর্জন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উন্নয়নভিত্তিক উদ্যোগ। সবুজ ক্যাম্পাস, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার, বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট, পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং সামাজিক সম্পৃক্ততামূলক কার্যক্রম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই স্বীকৃতি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

প্রতিবছর টাইমস হায়ার এডুকেশন জাতিসংঘের ১৭টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা, শিক্ষা কার্যক্রম, সামাজিক সম্পৃক্ততা, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ মূল্যায়ন করে এই র‍্যাঙ্কিং প্রকাশ করে। এবারের মূল্যায়নে বিশ্বের ১১৪টিরও বেশি দেশের ১ হাজার ৬০০ এর বেশি বিশ্ববিদ্যালয় অংশগ্রহণ করে।

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান
দেশে এককভাবে প্রথম এবং বিশ্বে ৮৭তম স্থানে রয়েছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। দেশে এককভাবে দ্বিতীয় এবং বিশ্বে ৩০১–৪০০ ব্যান্ডে রয়েছে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ।
বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ের ৪০১–৬০০ ব্যান্ডে বাংলাদেশের মোট ৬টি বিশ্ববিদ্যালয় জায়গা করে নিয়েছে। দেশের প্রেক্ষাপটে তারা সবাই যৌথভাবে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ের ৬০১–৮০০ ব্যান্ডে বাংলাদেশের ৩টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। দেশের হিসেবে তারা যৌথভাবে নবম স্থানে রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো আইইউবিএটি (ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি), রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ। ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ বৈশ্বিকভাবে ৮০১–১০০০ ব্যান্ডে অবস্থান করছে এবং বাংলাদেশের মধ্যে এককভাবে দ্বাদশ স্থান অর্জন করেছে।বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ের ১০০১–১৫০০ ব্যান্ডে বাংলাদেশের মোট ১০টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। দেশের হিসেবে তারা সবাই যৌথভাবে ত্রয়োদশ স্থানে রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি), ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি), শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এবং বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষের মতে, এই অর্জন শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, অ্যালামনাই এবং দেশি-বিদেশি অংশীদারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। ভবিষ্যতেও টেকসই উন্নয়ন, গবেষণা ও উদ্ভাবনে নেতৃত্ব ধরে রাখতে কাজ করে যাবে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

চাঁদপুর টাইমস ডেস্ক/ ২৫ জুন ২০২৬

Explore More Districts