
তেহরান, ২৩ জুন – ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মঙ্গলবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফরে যাচ্ছেন। এই সফরকে শুধু কৃতজ্ঞতা প্রকাশের আনুষ্ঠানিকতা নয় বরং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে তেহরানের নতুন অবস্থানের একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর এটিই পেজেশকিয়ানের প্রথম বিদেশ সফর। এই সফরের প্রেক্ষাপট অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সম্প্রতি পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের প্রথম দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
সেই বৈঠক থেকে একটি ৬০ দিনের রোডম্যাপ তৈরি হয়েছে যা চূড়ান্ত সমঝোতার দিকে এগোচ্ছে। ইসলামাবাদে অবস্থানকালে পেজেশকিয়ান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হবেন।
এছাড়া পাকিস্তানের সিনেট চেয়ারম্যান ইউসুফ রাজা গিলানি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গেও তার সাক্ষাতের কথা রয়েছে। আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ইরান আলোচনা, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, জ্বালানি সহযোগিতা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা প্রাধান্য পাবে।
মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষকদের মতে পাকিস্তান এখন কেবল বার্তাবাহক নয় বরং একটি কার্যকর আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। পেজেশকিয়ান এই সফরের মাধ্যমে প্রমাণ করতে চান যে কূটনীতি কোনো আত্মসমর্পণ নয়। ইরান তার সার্বভৌম অবস্থান বজায় রেখেই আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে।
ইরানের প্রধান লক্ষ্য এখন দেশটির ওপর থেকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। ইতোমধ্যেই ৬০ দিনের জন্য ইরানকে বিশ্ববাজারে তেল রফতানির সুযোগ দেওয়া হয়েছে যা দেশটির জন্য বড় ধরনের স্বস্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এস এম/ ২৩ জুন ২০২৬



