বাবার মোটরসাইকেলে চড়ে ঘুরে বেড়াতাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

বাবার মোটরসাইকেলে চড়ে ঘুরে বেড়াতাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

তবে সবচেয়ে বেশি আবেগ কাজ করে যখন ভাবি, বাবা তাঁর ছাত্রজীবনে যে হলে থাকতেন, আমিও সেই একই হলের শিক্ষার্থী। শহীদ জিয়াউর রহমান হলের করিডর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে কখনো কখনো মনে হয়, কয়েক দশক আগে বাবা হয়তো এই পথেই বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করতে করতে হেঁটেছেন। আমার ও বাবার একই ক্যাম্পাস, একই হল—এটা যখন ভাবি, খুব ভালো লাগে।

শুধু ক্যাম্পাস নয়, সময়ের সঙ্গে আমাদের ভূমিকারও পরিবর্তন হয়েছে। ছোটবেলায় পয়লা বৈশাখে বাবার হাত ধরে ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অনুষ্ঠানে যেতাম। বাবা আমাকে তাঁর বিভাগের আনন্দ-উৎসব দেখাতেন। আর এখন আমার বিভাগের অনুষ্ঠান দেখতে আসেন বাবা।

গত পয়লা বৈশাখে বিভাগের র‍্যালিতে আমি বর সেজেছিলাম। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নাটকে ‘মন্টু ঘটক’ চরিত্রে অভিনয় করি। মঞ্চে দাঁড়িয়ে অভিনয় করার সময় একবার দর্শকসারির দিকে তাকিয়ে দেখি বাবা বসে আছেন। তাঁর মুখের হাসিটা আজও মনে পড়ে। সেই মুহূর্তে মনে হয়েছিল, ছোটবেলায় যিনি আমাকে এই ক্যাম্পাসের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন, আজ তিনি আমার আনন্দের অংশ হতে এসেছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের পরিবারের কাছে শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; এটা স্মৃতি, স্বপ্ন, ভালোবাসা আর উত্তরাধিকারের নাম। বাবার হাত ধরে যে ক্যাম্পাসে প্রথম পথচলা শুরু হয়েছিল, আজ সেই ক্যাম্পাসেই নিজের পরিচয় গড়ে তুলছি। বাবা দিবসে এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

Explore More Districts